রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে আলু চাষের পরিমাণ এবারও কমেছে। উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি এবং গতবারের ক্ষতির কারণে আগের বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কম জমিতে আলু বপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, এবং বর্তমানে কৃষকরা ক্ষেতের পরিচর্যা, সেচ, সার প্রয়োগ ও আগাছা দমনসহ রোগবালাই প্রতিরোধে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের ক্ষেত্রফল ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার হেক্টর। কৃষি অফিসের লক্ষ্য ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর, যা অতিক্রম করা হয়েছিল। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার হেক্টর, কিন্তু তা পূরণ হয়নি।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, উপজেলা অনুসারে আলু চাষের পরিমাণ: তানোরে ১২,২৫৫ হেক্টর, বাগমারায় ৬,৪৮৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৪,৪৯৫ হেক্টর, পবায় ৩,৪১০ হেক্টর, বাঘায় ২,৮৫৭ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ২,৯২ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১,৫২০ হেক্টর, পুঠিয়ায় ৭৭০ হেক্টর, চারঘাটে ১৮০ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩৫ হেক্টর, মতিহারে ১০ হেক্টর ।
তানোর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের জহরুল ইসলাম বলেন, “গতবার আলু চাষে বড় লোকসান হয়েছে। ১ লাখ টাকা খরচ করে পাওয়া গেছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। এবারও লাভের আশায় চাষ করছি, তবে সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, না হলে আগামী বছর চাষ করব না।”
বাগমারা উপজেলার বীরকয়া গ্রামের আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, “সময়মতো বীজ রোপণ করেছি। আবহাওয়াও অনুকূলে আছে। নিয়মিত সেচ ও সার দিচ্ছি। যদি বাজারে ন্যায্য দাম পাই এবং বড় কোনো রোগ না লাগে, তাহলে লাভ হবে।”
মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, “খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে—বীজ, সার এবং শ্রমিকের মজুরি সবই বেশি। তবে ফলন ভালো হলে খরচ পূরণ হবে। সরকার যদি সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে, তাহলে আমরা উপকৃত হব।”
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষকদের সতর্ক করেছেন, শীতকালীন মৌসুমে আলুতে লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আলু রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং হালকা বৃষ্টিতে রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আক্রান্ত পাতায় প্রথমে ছোপছোপ সবুজ-হালকা দাগ দেখা যায়, যা দ্রুত কালো হয়ে যায় এবং পাতা পচে যায়।
কৃষকরা রোগ প্রতিরোধে প্রতি সাত দিন অন্তর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে পারবেন। ইতোমধ্যে রোগ দেখা দিলে সেচ বন্ধ করে ৪–৫ দিন অন্তর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। আরও কিছু জমিতে আলু চাষ হবে, সেগুলো সম্পন্ন হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

