রাজশাহীর তানোর উপজেলায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই দিনে দুটি গভীর নলকূপে তালা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার ও রোববার কামারগাঁ ইউনিয়নের ছাঐড় মৌজায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গভীর নলকূপের দুই অপারেটর ওয়াসিম আকরাম ও শামিউল ইসলাম বাদী হয়ে আজিজুল, এরশাদ, মোজাফফর ও যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানসহ ৯–১০ জনের নাম উল্লেখ করে রোববার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৃষকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষের দিকে কামারগাঁ ইউনিয়নের ছাঐড় মৌজায় অবস্থিত দুটি গভীর নলকূপের অপারেটর হিসেবে ওয়াসিম আকরাম ও শামিউল ইসলাম নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তাঁরা কৃষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার অভিযুক্ত মোজাফফর, আজিজুল ও মিজানুরের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শামিউল ইসলামের গভীর নলকূপে তালা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
শামিউল ইসলাম জানান, “আমি অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। গত বোরো মৌসুমে কৃষকরা বিঘাপ্রতি ১২০০ টাকা হারে চাষাবাদ করেছেন। সেচ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তালা মারতে আসে।”
অপর অপারেটর ওয়াসিম আকরাম জানান, “রোববার সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার গভীর নলকূপে তালা দেওয়া হয়। আমি ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই কৃষকরা তালা ভেঙে ফেলেন।”
স্থানীয় কৃষক আব্দুল বলেন, পুলিশ আসার পর মোজাফফর দাবি করেন যে আজিজুলের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে সঠিক কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত মোজাফফর দাবি করেন, “আমরা মসজিদের নামে গভীর নলকূপ পরিচালনার কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের কথা না শোনায় তালা মারা হয়েছে।” তবে তালা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সবার স্বার্থে করলে করা যায়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য অভিযোগে নাম দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সেচ কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। মারপিট বা টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো গুজব। মূলত কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

