গত এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে অসময়ের বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সবজির।
আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ প্রতিটি সবজির দামই এখন বেশি। নিম্ন আয়ের অনেকে এগুলো কেনা প্রায় বাদই দিয়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল ভ্যানচালক ও রিক্সাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। উপজেলা জুড়ে বৃষ্টির কারণে কর্মজীবী মানুষ কাজে বের হতে পারেনি। বিশেষ করে দিনমজুর, মিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিকরা ঘর থেকে বের হতে পারেনি।
রাস্তাঘাটে যানবাহন ও লোক চলাচলও ছিল কম। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে অসময়ের বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই যেন মরার উপর খাড়া কাড়।
মৌসুমি বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বড় শহরগুলোর বাজারে কৃষিপণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পরায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাঁচাবাজারে সবজির দাম সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে।
কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো এখন খুব কষ্টের। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
নিম্ন আয়ের মানুষেরা জানান, টানা বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের সড়ক, বাজার ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় কাজ কম না থাকায় আয়ও কমে গেছে। ফলে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্ষাকাল হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের শাকের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি রয়েছে। দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে বেচাকেনা ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুঁইশাক ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলুর দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকায় পৌঁছেছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়। বেগুন, পটোল, করলা, ঝিঙা, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, কচুরলতি, বরবটি ও শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম বাজার ও মানভেদে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। কাঁচামরিচের দামও মানভেদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ ক্রেতারা।
আজ সকাল থোকে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গেছে, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শশা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গার দাম ৭০ গত সপ্তাহে যা কেজিপ্রতি ছিল ৪০ টাকা।
করলা ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং লাউ ৪০ টাকা জায়গায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দাম কম হলেও শশা ৮০ টাকা গাজর ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে কাঁচা কলা প্রতি হালি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে মানভেদে প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা এবং একটি চাল কুমড়ার দাম প্রায় ৫০ টাকা।
মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, শিং, পাবদা, টেংরা, পাঙাশ, কৈ, সিলভার কার্প ও চিংড়ি আকার ও মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা থেকে ৪৭০ টাকা, ২০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ হতে ৩৫০ টাকা।
এদিকে মুরগির বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। গরু ও খাসির মাংসের দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা থেকে ৩৭০ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায়।
রিকশাচালক রাকিব, ফিরোজ, শহীদ, মোবারক, মিজানসহ কয়েকজন বলেন, একাই আয় করি। বৃষ্টির দিনে ৩০০-৪০০ টাকার বেশি আয় হয় না। মানুষ কম বের হয়, তাই ভাড়াও কম। এ অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বাজার করতে আসা ক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে টাকা নিয়ে বাজারে আসি, তাতে প্রয়োজনীয় সবজি কেনাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো এখন খুব কষ্টের। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
মাছ ব্যবসায়ী সামু, ঈমান, দেলোয়ার, লক্ষণ মজুমদারসহ অনেকে বলেন, বর্ষাকাল হওয়ার পরেও মাছের দাম কমেনি। পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকানে দামের পার্থক্য ৫ থেকে ২০ টাকা। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়লে সবজি ও মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে স্বস্তি ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সবজি বিক্রেতা মো: সবুজ জানান, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, সেই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
এসব বিষয় জানতে চাইলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

