বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে শেষ হলো ন্যাশনাল ইনিশিয়াল এন্ড হাই স্কুলের ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক সেশন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জামগড়া মধ্যপাড়া, মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকায় বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এই ফলাফল প্রকাশ হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশকালে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, প্রত্যেক শ্রেণির শাখাভিত্তিক মেধাতালিকা তৈরি করে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অধিকারীদের মাঝে বিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত আকর্ষণীয় সিরামিকপণ্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরো অগ্রগতি হবে বলে মনে করেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও সচেতন অভিভাবক মহল।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, জামগড়ায় আমরাই প্রথম ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের শিক্ষকগণ ডিজিটাল কন্টেন্ট দ্বারা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নিচ্ছেন। এছাড়াও ২০২৬ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থীরা স্মার্ট বোর্ডে ক্লাস করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, জামগড়ায় জলাবদ্ধতাসহ নানান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এর মধ্যে অনন্য ভূমিকায় বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি, বিদুৎ না থাকলেও যেন শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ না করে তাই এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শ্রেণিকক্ষে সার্বক্ষণিক সোলার প্যানেল ও নিজস্ব জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। আশাকরি আগামী দিনে বাংলাদেশ গঠনে মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরীতে অনন্য ভূমিকা রাখবে আমাদের এই ন্যাশনাল ইনিশিয়াল এন্ড হাই স্কুল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মো. আনিছুর রহমান মীর তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য। যারা শিক্ষায় প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পেরেছে তারাই আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। অভিভাবক হিসেবে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনার সন্তান একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে কতটুকু সক্রিয় এবং উদ্ভাবনী শিক্ষায় কি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, আশুলিয়া থানার সেক্রেটারী মো. আবুল হোসেন মীর বলেন, অত্র বিদ্যালয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ। আমি চাই শিক্ষকরা যেন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির যথোপুক্ত ব্যবহার শিখান। তিনি আরো বলেন, নেপুলিয়ন বলেছিনে “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো। অর্থাৎ একজন শিক্ষিত মা-ই পারে কেবল একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে অন্যন্য ভূমিকা রাখতে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ইয়ারপুর ইউনিয়ন সেক্রেটারী মাহবুব আলম বলেন, পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। তুমি যদি পরিশ্রম না কর তাহলে তোমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না, তিনি একটি কুরআনের আয়াতের উদ্বৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেন যে আল্লাহ তার বান্দার ভাগ্য ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তার বান্দা ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে। উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. শাহাদাত হোসেন সভাপতি, ১নং ওয়ার্ড ইয়ারপুর ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও একাডেমিক কোঅর্ডিনেটর মো. কামরুল ইসলাম, মো. বাইজিদ বোস্তামী, জয়নাল আবেদীন ও অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক রাবেয়া আক্তার, আঞ্জুমান আরা, পলি আক্তার, নাপরিন সুলতানা, দিবা শাখার সিনিয়র শিক্ষক আনিছুর রহমান লিটন, রাকিবুল ইসলাম রবিন, নূরুননাহার, মামুনুর রশীদ, আতিকুর রহমান, হারেজ শেখ, লাবনী আক্তার, মুক্তি খাতুন, রওশান আরা, সুরভী আক্তার প্রমুখ।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

