গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে কনকনে শীত। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর কমে যাওয়া তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ভোরের দিকে যেন শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তবুও জীবিকার তাগিদে থেমে নেই মানুষের পথচলা। কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালকে সঙ্গী করেই শুরু হয় কর্মব্যস্ত দিন।
ভোর হতেই উপজেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যায় ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল। শীতের কুয়াশা চিরে নিজেদের গন্তব্যে ছুটছেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, দিনমজুর, সবাই। কারও গায়ে গরম কাপড়, মাফলার, টুপি, হাতে মোজা; আবার কোনো কোনো নিম্নআয়ের মানুষকে দেখা যায় রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে সামান্য উষ্ণতার আশায় শরীর সেঁকতে।
শীত উপেক্ষা করেই কাঁচাবাজারেও জমতে শুরু করে ভোরের ভিড়। সবজি বিক্রেতা, মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতোই সাজিয়ে বসেন দোকানপাট। শীতজর্জরিত মুখে কাস্টমারদেরও দেখা যায় প্রয়োজনের তাগিদেই বাজারে আসতে।
একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, শীত বেশি হলেও বেচাকেনা থেমে নেই, পেটের দায়ে বসতেই হয়।
তবে শীতের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনে। যাদের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ নেই, ফুটপাত কিংবা খোলা জায়গাই যাদের আশ্রয়। এই কনকনে শীত তাদের জন্য হয়ে উঠেছে বড় দুর্ভোগ।
শীতের এমন প্রকোপে চিকিৎসকরাও দিচ্ছেন সতর্কতা। শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরের ঝুঁকি বেশি থাকায় গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে শীত মানুষের জীবনে কষ্ট বাড়ালেও থামাতে পারেনি জীবনের গতি। প্রতিদিনের সংগ্রাম, রুটিরুজির তাগিদ আর বেঁচে থাকার লড়াইয়েই এগিয়ে চলছে মুকসুদপুরবাসীর দিনযাপন। কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা সকালে তাই শীতের মাঝেই জীবনের উষ্ণতা খোঁজার নিরলস প্রয়াস।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

