কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের ঘটনায় “কালীগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট প্রকল্পে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ” শিরোনামে একুশে সংবাদ অনলাইন পোর্টালে গত ২১ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম সরাসরি জড়িত থাকায় সংবাদ প্রকাশের পর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কেঁচো সার উৎপাদন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিমের বিরুদ্ধে। সূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ শাখার উপসচিব মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে অন্যত্র বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ওই কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিমকে গাজীপুরের জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমিতে (নাটা) প্রশিক্ষণে বদলি করা হয়েছে।
প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ও উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় এবং কৃষিখাতে অনিয়মের কারণে কৃষক ও রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
সংবাদ প্রকাশের সময় স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির ঘাটতি ছিল। নামমাত্র কার্যক্রম দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত কেঁচো সরবরাহ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফারজানা তাসলিমের বিরুদ্ধে।
কেঁচো সার প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ বদলির মাধ্যমে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগে কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিমকে বদলি করা হলেও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই বদলিই কি সব দায় এড়ানোর কৌশল?
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান মুঠোফোনে জানান, কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিমকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

