AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বনদস্যু আতঙ্কে দিন কাটছে সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীদের


Ekushey Sangbad
মাসুম বিল্লাহ্, শরণখোলা, বাগেরহাট
০২:১৯ পিএম, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

বনদস্যু আতঙ্কে দিন কাটছে সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীদের

২০১৮ সালে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আবারও নতুন করে বনদস্যুদের উত্থান ঘটেছে। অপহরণ, মুক্তিপণ ও নির্যাতনের ভয়ে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরনো ও নতুন গোষ্ঠী মিলে বর্তমানে প্রায় ২০টি দস্যুবাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে।

বিশেষ করে পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মরা ভোলা, আলী বান্দা, ধঞ্চে বাড়িয়া ও টিয়াচর এলাকায় তাদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। এতে উপকূলীয় অর্থনীতি পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে।

শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন জেলখানার বন্দী, চিহ্নিত অপরাধী ও আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা অস্ত্রসহ পালিয়ে যায়। এদের অনেকে এখন সুন্দরবনে পুনরায় দস্যুতা চালাচ্ছে। তিনি বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া প্রায় তিন শতাধিক জেলে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ও নির্যাতিত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শতাধিক জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে দস্যুরা। এর মধ্যে অনেকে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ছাড়া পেলেও এখনো অনেকে জিম্মি অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা, আলী বান্দা, ধঞ্চে বাড়িয়া, তেঁতুল বাড়িয়া, টিয়াচর, আন্ধারমানিক, পশুর ও শিবশা এলাকায় জলদস্যুদের কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি। এসব দস্যু বাহিনী বিভিন্ন নামে দল গঠন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আত্মসমর্পণকারী অপরাধী ও বিভিন্ন মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে নতুন বাহিনী।

বর্তমানে সক্রিয় বাহিনীগুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীর বাহিনী, মনজুর বাহিনী, দাদাভাই বাহিনী, করিম-শরিফ বাহিনী, আসাদুর বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবি বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, রাঙা বাহিনী, সুমন বাহিনী, আনোয়ারুল বাহিনী, হান্নান বাহিনী ও আলিফ বাহিনী উল্লেখযোগ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বনসংলগ্ন এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দস্যুদের মধ্যস্থতাকারী ও সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। তারা অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করে দস্যুদের কাছে পৌঁছে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলার একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানান, “দস্যুদের বিরুদ্ধে কথা বলা নিরাপদ নয়। বনের পাশে জেলে ও মৎস্য আড়তের আশেপাশে দস্যুদের প্রতিনিধি বা সোর্স সবসময় ঘোরাফেরা করে। কেউ তথ্য ফাঁস করলে পরে বনে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং চাঁদার অঙ্ক বেড়ে যায়।”

তাদের ভাষ্য, এখন মাছ ধরতে গেলে প্রতি নৌকায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। অপহরণের ঘটনায় মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

কোস্টগার্ড মংলা পশ্চিম জোনের স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে দস্যুদের উৎপাত শুরু হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। গত এক বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ২৭টি অভিযান পরিচালনা করে ৪৪ জন বনদস্যু ও তাদের সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩টি দেশীয় অস্ত্র, ১৭০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩৬৯টি ফাঁকা কার্তুজ। এছাড়া ৪৮ জন জেলেকে জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “যেভাবে দস্যুদল হানা দিতে শুরু করেছে, তাতে শুটকি মৌসুমে দুবলা ও আশপাশের চরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।”
তিনি দস্যু দমনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!