কোটচাঁদপুরের শিশু মাহমুদা খাতুন (৬) হত্যা মামলায় সৎ মা বন্যা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ৫ আগস্ট তিনি এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মাহমুদাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, কোটচাঁদপুর ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের শাহিন আলম (৩০) বন্যা খাতুন ওরফে হুমাইরা (১৯)-কে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মোবাইলে বিয়ে করেন প্রায় এক বছর আগে। নিহত শিশু মাহমুদা ছিল শাহিন আলমের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ও বন্যার সৎ মেয়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শাহিন আলম বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরেন। শুরুতে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক ভালো থাকলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সৎ মেয়ে মাহমুদাকে নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এরপর থেকেই বন্যা খাতুন পরিকল্পনা করেন— ভবিষ্যতে তার সন্তান জন্মালে যেন স্বামীর সম্পত্তির ভোগদখল পুরোপুরি তারা করতে পারে। সেই পরিকল্পনারই শিকার হন শিশু মাহমুদা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ মার্চ বন্যা খাতুন কোমল পানীয়র সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান মাহমুদাকে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু মাহমুদা। মৃত্যুর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবাকে বিষয়টি জানায় সে। ওই সময় স্বজনরা মাহমুদার স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ তা আলামত হিসেবে জব্দ করে। এছাড়া কোমল পানীয়ের আরসি ও পাওয়ার নামের দুটি বোতলও জব্দ করে পুলিশ।
এরপর গত ৬ মার্চ মারা যায় স্কুলছাত্রী মাহমুদা খাতুন। সেদিন থেকেই স্থানীয়রা সৎ মা বন্যা খাতুনকেই হত্যার জন্য দায়ী করতে থাকেন। পরে ৭ মার্চ শাহিন আলম নিজেই স্ত্রী বন্যার বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপু কুমার বিশ্বাস। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিসেরা রিপোর্ট এবং জব্দকৃত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আসামি বন্যা খাতুন তার সৎ মেয়ে মাহমুদাকে কোমল পানীয়তে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেছে। এতে তিনি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় কেউ অভিযুক্ত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
একুশে সংবাদ/ঝি.প্র/এ.জে