মৌসুম চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ্যের। এই সময় নানা রকম রসালো ফলের ভিড়ে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জে পানি তাল হয়ে উঠেছে বিশেষ কদরের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পানি তাল এখন সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
দামে সস্তা হওয়ায় এবং প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর হওয়ায় তালের শ্বাসের চাহিদা অনেক বেশি। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মৌসুমি ফলটি শরীরের পানিশূন্যতা রোধে সহায়ক। তালের শ্বাস ছাড়াও এর রস, গুড়, পিঠা ও পাকা তালের বিচির শ্বাস—সবই জনসাধারণের কাছে সমান জনপ্রিয়।
তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, তালগাছের এমন উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও বিগত ২০ বছরেও মোরেলগঞ্জে সরকারিভাবে তালগাছ রোপণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, তালগাছ বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতেও সহায়ক।
প্রতিদিন গ্রামের পর গ্রাম ছুটে বেড়াচ্ছেন মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা। দুপুরের পর থেকেই তারা সড়কে দাঁড়িয়ে পরিবহনগুলোতে পানি তাল তুলছেন। স্থানীয় বাজারে একটি পানি তাল ১০ টাকায় বিক্রি হলেও গ্রাম পর্যায়ে ১৫০-২০০ টাকা দরে প্রতি ১০০টি তাল কিনছেন ফড়িয়ারা।
তাল বিক্রেতা আলম জানান, প্রতিটি তালে গড়ে তিনটি শ্বাস থাকে। পাইকারি হারে প্রতিটি তাল ৫ থেকে ৬ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। তীব্র গরমে তালের শ্বাস বেশ ভালো বিক্রি হয়, আর এতে প্রতিবছরই তারা লাভবান হন।
তার ভাষ্য, “প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ হাজার পানি তাল ঢাকায় পাঠানো হয়। তালের এই মৌসুমটি আমাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “তালগাছ একটি অর্থকরী ফসল এবং এটি বজ্রপাত রোধেও কার্যকর। মোরেলগঞ্জের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় তালগাছ রোপণ উপযোগী। যদিও বর্তমানে সরকারিভাবে তালগাছ রোপণের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই, তবে বিভিন্ন এনজিও বা সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ উদ্যোগ নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে কৃষি অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে, যেন ভবিষ্যতে পরিকল্পিতভাবে তালগাছ রোপণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
গরমে স্বস্তির ফল পানি তাল এখন শুধু একটি মৌসুমি খাদ্যদ্রব্য নয়, বরং এটি পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনীতিতে অবদান রাখার বিশাল সম্ভাবনার উৎস। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে তালগাছ রক্ষায় এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ।
একুশে সংবাদ/বা.প্র/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

