বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে মারধর ও তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শিহাব (৩০), সামসুল আলম (৫৫) , সিরাজুল ইসলাম (২৬) এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর `মা` শাহিদা বেগম শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টায় রাজিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বাদী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় ঈদ উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন মেহেদী হাসান। বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে শিহাব (৩০), মো. সামছুল আলম (৫৫), সিরাজুল ইসলাম (২৬) ও আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এরপর কথিত রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মেহেদী ও তার সঙ্গীদের শিবেরডাঙ্গী নয়াপাড়া সেতু এলাকায় পথরোধ করে তার কাছে থাকা স্মার্টফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেহেদী হাসানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল মেহেদীর সঙ্গীরা তাকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেহেদীকে ভুট্টা খেতে নিয়ে গলায় চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা শাহিদা বেগম। পরে মেহেদীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এরপর স্থানীয়রা মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন সেদিন রাতেই।
মেহেদীর মা শাহিদা বেগম জানান, “আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ ছিল, তাই থানায় অভিযোগ করতে একটু সময় লেগেছে।” তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও হুমকি-ধমকির অভিযোগও করেন।
অভিযুক্তদের অন্যতম মো. শিহাব বলেন, “আমি আমার বক্তব্য থানায় দিয়েছি, বাকিটা তারা দেখবে।”
এ বিষয়ে রাজিবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একুশে সংবাদ/বিএইচ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

