ঈদ উপলক্ষে ফেসবুকে ছবি ভাইরাল করতে মাগুরার শ্রীপুরের গড়াই নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়েযুবক নিখোঁজ। একদিন পর নদী থেকে ওই যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদীতে বন্ধুর সাথে গোসল ও সাঁতার কাটতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নদীর পানিতে নিখোঁজ হয় রাহাদ মোল্লা(১৮) নামে এক যুবক। একদিন পর অর্থ্যাৎ আজ শুক্রবার(০৪ এপ্রিল) ভোর সকালে ভাসমান অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিহত যুবক মাগুরার শহরের পার্শ্ববর্তী ভিটাশাইর গ্রামের রকিব মোল্লার পুত্র।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানান, মাগুরার শহরের পার্শ্ববর্তী ভিটাশাইর গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাহাদ, মিনহাজ ও হুসাইন নামে ১৭-১৮ বছরের তিন যুবক বন্ধুত্বের টানে ঈদের আনন্দকে একটু ভাগাভাগি করে নিতে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরাল হতে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে গোসল ও সাঁতার কাটতে ছুটে এসেছিল শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদা-কামারখালী সংযোগ গড়াই সেতুর তলদেশ গড়াই নদীতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নদীতে সাঁতার ও গোসলের ছবি তুলে ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল হওয়া।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিন বন্ধুর মধ্যে রাহাদ ও মিনহাজ গড়াই নদীর স্বচ্ছ পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে শুরু করে। দুই বন্ধুর ইচ্ছা ছিল সাঁতার কেটে নদীর এপার থেকে ওপারে গিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করা কিন্ত সে ইচ্ছাটুকু আর তাদের পূরণ হলো না। অবশেষে লাশ হয়ে ফিরল বাড়িতে। দীর্ঘ প্রশস্থ নদী পাড়ি দিতে গিয়ে মাঝ নদীতে যেয়ে রাহাদ হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং হাত নেড়ে বন্ধুকে জানায় রক্ষা করতে। অপর বন্ধু মিনহাজ কাছে গিয়ে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই ডুবে মরার উপক্রম হয়। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধু রাহাদকে ছেড়ে দিয়ে নিজের জীবনকে রক্ষা করে মিনহাজ।
এর পরপরই রাহাদ নামের যুবকটি মুহুর্তের মধ্যেই নদীর অতল গভীতে হারিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ডুবন্ত যুবককে উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয় লোকজন মাছধরা বেরজালসহ বিভিন্নভাবে নদীতে তল্লাশী করে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হন। পরে সংবাদ পেয়ে মাগুরা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে খুলনার ডুবুরী দলকে সংবাদ দেন। বিকেল ৪টার দিকে খুলনার ডুবুরী দল নদীতে নেমে অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা ধরে অভিযান পরিচালনা করেও নিখোঁজ যুবককে উদ্ধার করতে সক্ষম হননি ডুবুরী দল। এভাবেই রাতটি অতিবাহিত হতে না হতেই
আজ শুক্রবার (০৪ এপ্রিল) ভোর সকালে এলাকাবাসী নিখোঁজ যুবকের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা রাহাদের মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়ি মাগুরার ভিটাশাইর গ্রামে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একুশে সংবাদ/এনএস



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

