যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউএস (কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ এবারও স্থান পায়নি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় স্থান পেলেও সেখানে নেই বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টির পর রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এবারের তালিকায় বাংলাদেশের মোট ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে আটটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পাবিপ্রবি আন্তর্জাতিক এই র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিতে পারেনি।
প্রতিবছর জুন মাসে কিউএস তাদের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। একাডেমিক সুনাম, নিয়োগদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, গবেষণার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এই র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়।
স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মুহতাসিম বিন জামান বলেন, বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়-এ স্থান পেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকা আমাদের জন্য একটি বার্তা। পাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বৃদ্ধি, উচ্চমানের জার্নালে প্রকাশনা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পাবিপ্রবিও বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী তাজ ওয়ারুল বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ বছর অতিক্রম করেছে। তাই এখন আর এটিকে নবীন বিশ্ববিদ্যালয় বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে আমাদের সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেলেও আমরা এখনও পিছিয়ে। এমনকি কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-এও আমাদের কোনো অবস্থান নেই। গবেষণার পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উচ্চমানের প্রকাশনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রশাসন নিয়মিত তথ্য জমা দেয় কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই। এখন সময় এসেছে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার।
উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিতে হলে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও উদ্ধৃতি (সাইটেশন) বাড়ানো এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

