AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

যেমন ছিলো রমজানে ক্যাম্পাস


Ekushey Sangbad
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
০৯:৪৮ পিএম, ২০ মার্চ, ২০২৬

যেমন ছিলো রমজানে ক্যাম্পাস

সেহেরি খাবে না, উঠো সময় হয়ে গেছে, উঠো, উঠো। মায়ের সেই মধুর কন্ঠের বিপরীতে ঘুম ভাঙ্গে যন্ত্র নির্মিত অ্যালার্মের শব্দে। দুটি শব্দের সংকীর্ণতা প্রতিটি হৃদয়ে অনুভব করে। কখনো এখনো রুমমেটের উচ্চকন্ঠে ঘুম ভেঙ্গে যায়।

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যায় কাঁচা হাতে রান্না করা পাঁকা খাবারেই সেহরি শেষ করতে হয়। ক্যাফেটেরিয়া, ড্রাইনিং বা ক্যান্টিনের দীর্ঘ লাইন শিক্ষার্থীদের কাছে টানতে পারে না ।

সেহরি শেষে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য কেউবা জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যায়৷ চোখের পানিতে জায়নামাজ  ভিজে ফেলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

ফজরের নামাজ শেষে ঘুমিয়ে পড়েই সবার রমজানের প্রথম পাট শেষ হয়।  অনেক রুম থেকেই ভেসে আসে মধুর কন্ঠে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত।

ঘুম থেকে উঠেই যথারীতি কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছুটতে হয় ডিপার্টমেন্টে। ২-৩ টা ক্লাস শেষে মসজিদের মুয়াজ্জিনের কন্ঠ ভেসে আসে। যেই বন্ধুকে কখনো মসজিদে দেখিনি সালাম ফিরিয়েই পাশের সেই বন্ধুকে চোখে পড়ে। দুইজনের চোখে চোখ পড়লে ফুটে উঠে ঠোঁটের ভাঁজে মৃদু হাসি।

চারপাশে একটু তাকালেই চোখে পড়ে সেই পরিচিত মুখগুলো, হাজারো ব্যস্ততায় থাকা শিক্ষকরা ভীড় করে মসজিদে।  মসজিদ হয়ে উঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলন কেন্দ্র। যা অন্য কেনো সময় লক্ষ করা যায় না।

যোহরের নামাজ শেষে অনেকেই যায় টিউশনিতে, পড়ার টেবিলে স্বপ্নগুলো গুছিয়ে নিতে নয়তো ঘুমাতে। রমজানে ক্যাম্পাস প্রাণ ফিরে পায় বিকেল বেলা। প্রতিটি শূন্য মাঠ ভরে যায় বন্ধুত্বে। ইফতার নিয়ে গোল হয়ে বসে পড়ে খেলার মাঠে, কনক্রিটে মুড়ানো কোনো স্থানে।

মাথার ঠিক উপরে বিশাল আকাশ নিচে সবুজ ঘাস,গোধূলি বেলার  মৃদু বাতাস প্রতিটি প্রাণের ক্লান্তি দূর করার জাদুর কাঠি । খেজুর, মুডি, ছোলা,বেগুনি, পিয়াজু, জিলাপি একসাথে মাখানো হয় ঠিক নিজেদের সম্পর্কের মতোই। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে যায় সেই ছোট ঘাসের স্পর্শে।

মাঝে মধ্যেই সিআর এর ক্লাসের নোটিশের ব্যতয়  নোটিশ লক্ষ করা যায় " আজকে এততম ব্যাচ ইফতার করাবে সবাই ৫ টার আগেই মাঠে উপস্থিত হবি "। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠনগুলো তাদের সাধ্য মতো ইফতারের আয়োজন করে৷

সিনিয়রদের ইফতার, বিভিন্ন সংগঠনের ইফতারের ভীড়ে অনেক সময় রুমমেটদের সাথে ইফতার করাই হয়ে উঠে না।  অনেক রুম আবার ঠিক উল্টো, তাঁরা রুমমেট ছাড়া ইফতার করে না তাদের সিনিয়রদের ইফতার, সংগঠনের ইফতারে মন টানে না।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোকে দেখা যায় ক্যাম্পাসে মুড়ানো দেওয়ালের বাহিরে গিয়ে পথশিশু,  নিরীহ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাঁরা ইফতার সামগ্রী ও ঈদের কাপড় বিতরণ করে।

এর মাঝে শিক্ষকদের ইফতারে অন্য রকম সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে যায় ক্লাস, পরীক্ষা, পরীক্ষার খাতা দেখা, ল্যাব, নিজেদের গবেষণাসহ হাজারো ব্যস্তার মধ্যে ইচ্ছে থাকলেই একত্র হওয়া যায় সেই উদাহরণ হয়ে থাকে।

রমজান মাসে ক্যাম্পাসে  সম্প্রীতির বাতাস বয়ে যায়। বন্ধুদের আড্ডায় ভাষা প্রয়োগ সীমিত হয়। শান্তির শীতল হাওয়া প্রতিটি  হৃদয় ছুয়ে যায়।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - ক্যাম্পাস

Link copied!