জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে পৃথক সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উভয় পক্ষের প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’-এর সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করেন, ভোট চলাকালে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের কয়েকজন ব্যালট নম্বরসংবলিত টোকেন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও শুরুতে কমিশন এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করে।
তিনি আরও বলেন, পরে প্রমাণ উপস্থাপন করার পর নির্বাচন কমিশন সব প্যানেলের প্রতিনিধিদের ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে বুথে প্রবেশের অনুমতি দেয়। তবে এর আগে তাদের প্যানেলের কাউকে এই সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা বৈষম্যের শামিল বলে তিনি দাবি করেন।
কোন প্যানেলের সদস্যরা টোকেন নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন—এ প্রশ্নের জবাবে রাকিব বলেন, শহীদ সাজিদ ভবনের কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টরা বিষয়টি জানিয়েছেন, তবে সংশ্লিষ্ট প্যানেলের নাম তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলও পাল্টা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা দাবি করেন, ভোট চলাকালে তাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ছাত্রদলের কর্মীরা জড়িত।
শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে তাদের প্রার্থীদের দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসা হয়। দর্শন বিভাগেও তাদের এক এজেন্টের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তারা শঙ্কিত বলে জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তার দাবি, শুরু থেকেই প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, শিবির সমর্থিত স্লিপ বিতরণকারীদের হেনস্তা করা হয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের পোলিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। প্যানেলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদপ্রার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ভোট স্লিপের নামে ছাত্রদলের একটি নির্দিষ্ট ভোটার তালিকা বিতরণ করে ভোটারদের নির্দিষ্ট ব্যালট নম্বরে ভোট দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতি বিভাগের একটি কেন্দ্রে তিনি নিজে এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও দাবি করেন। এসব অনিয়ম দ্রুত বন্ধে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৬৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলের শিক্ষার্থীরা হল সংসদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য আলাদাভাবে ভোট প্রদান করছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

