বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের দিরিয়াহ হতে পারে অন্যতম মনোমুগ্ধকর শহর। রিয়াদের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই শহরে উবার বা কারিমের মতো রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব।
সহজ যাতায়াত ও বাড়তি আকর্ষণ: রিয়াদ–ঢাকা রুটে বিমান চলাচলের সংখ্যা বাড়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দিরিয়াহ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজলভ্য। চলতি মৌসুমে শহরটিতে আয়োজিত চারটি বিশেষ ইভেন্ট দিরিয়াহকে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপ দিয়েছে। পরিবার, ইতিহাসপ্রেমী, সংস্কৃতি অনুরাগী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এসব আয়োজন এক অনন্য অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রকৃতি ও বিলাসের মেলবন্ধন: মিনজাল
প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রশান্তি খুঁজছেন এমন পর্যটকদের জন্য মিনজাল এক আদর্শ আশ্রয়স্থল। ‘দিরিয়াহ সিজন’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই আয়োজনটিতে রয়েছে বিলাসবহুল গ্ল্যাম্পিং, তারাভরা মরুভূমির রাত, শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও লাইভ পারফরম্যান্স। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মিনজাল বাংলাদেশি পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি ও নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে দর্শনার্থীরা চাইলে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে পারেন অথবা গ্ল্যাম্পিংয়ে রাত যাপন করে মরুভূমির নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
শিশু ও পরিবারের জন্য আল-হুয়েইত
ছোট শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আল-হুয়েইত একটি বিশেষ আকর্ষণ। দিরিয়াহর আদ-দাহিয়াহ এলাকায় আয়োজিত এই ইভেন্টে ঐতিহ্যবাহী গল্প ও লোককাহিনিগুলো খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে রয়েছে শিশুদের জন্য ইন্টারেক্টিভ প্লে এরিয়া, শিল্পকর্মভিত্তিক কর্মশালা ও শিক্ষামূলক আয়োজন। নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের শেখার পাশাপাশি অভিভাবকরাও সময় কাটাতে পারেন নিশ্চিন্তে।
ইতিহাসের পথে হাঁটা: হাল আল-কুসুর
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী পর্যটকদের জন্য হাল আল-কুসুর এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এই আয়োজন দিরিয়াহর প্রাচীন প্রাসাদগুলো এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের গৌরবময় অধ্যায়গুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরে। লাইভ পারফরম্যান্স, ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ও গল্পকথার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা তৎকালীন সৌদি নেতৃত্ব, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলী সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করেন। পরিবার, শিক্ষার্থী ও গবেষণামুখী দর্শনার্থীদের জন্য এটি ইতিহাস জানার একটি বিশেষ সুযোগ।
সন্ধ্যার নান্দনিক আয়োজন ও অভিজাত ডাইনিং অভিজ্ঞতার জন্য লায়ালি আল-দিরিয়াহ এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো স্বীকৃত আত-তুরাইফের পাশেই দিরিয়াহর ঐতিহাসিক পামবাগানে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই ইভেন্টে খোলা আকাশের নিচে চমৎকার খাবার, নান্দনিক আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করা যায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার কিংবা দম্পতিদের জন্য এটি এক স্মরণীয় সন্ধ্যার সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ
দিরিয়াহর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বিশ্বমানের আতিথেয়তা ও গভীর সাংস্কৃতিক পরিচয়। বাংলাদেশি পর্যটকরা এখানে এমন অনেক মূল্যবোধ খুঁজে পাবেন, যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গেও মিল রয়েছে—যেমন পারিবারিক বন্ধন, অতিথিপরায়ণতা এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা। রিয়াদ থেকে কাছাকাছি হওয়ায় একদিনের সফর কিংবা স্বল্প সময়ের ভ্রমণেও দিরিয়াহ ঘুরে দেখা সম্ভব। পাশাপাশি এখানে রয়েছে অসংখ্য নান্দনিক স্পট, যা ছবি তোলার জন্য আদর্শ।
অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন
সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে দিরিয়াহ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিলনস্থল। চলতি মৌসুমে দিরিয়াহ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত—যেখানে অতীতকে সম্মান জানানো হয় এবং বর্তমানকে উদযাপন করা হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

