ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

ডুবন্ত সড়কে হাঁটতে চাইলে ঘুরে আসুন উচিতপুর


Ekushey Sangbad

অক্টোবর ৩, ২০২০, ১২:৪০ পিএম
ডুবন্ত সড়কে হাঁটতে চাইলে ঘুরে আসুন উচিতপুর

নেত্রকোনার এতোদিন দুর্গাপুর উপেজলার বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড় আর গয়নাথের বালিশের জন্যই খ্যাতি ছিল। কিন্তু বর্ষার সময় মদন উপজেলার উচিতপুর হাওর এখন হয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। স্থানীয়রা জায়গাটির নাম দিয়েছেন মিনি কক্সবাজার। কক্সবাজারের মতো কোনও শহর নয় উচিতপুর। সমুদ্রের মতো নেই কোনও বিশাল জলরাশিও। তবু উচিতপুরের হাওর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনে লাভিং প্লেসে পরিণত হচ্ছে।

উচিতপুর হলো এমন একটি হাওর যার সৌন্দর্য মূলত জেগে ওঠে বর্ষাকালে। প্রতি বছরেই মৌসুমী বর্ষায় বা স্বাভাবিক বন্যায় এই হাওর প্লাবিত হয়। বছরের কয়েক মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে এই হাওরকে সাধারণত বিশাল মাঠের মতো মনে হয়। যেখানে তখন চলে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ। কিন্তু বর্ষাকালে যেন এই মাঠ হয়ে ওঠে পানিতে বিস্তৃত এক সমুদ্র সৈকত।
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই উচিতপুর হাওর। সেখানে গেলে প্রথমেই চোখে পড়বে বালই ব্রিজের দুই প্রান্তে প্রায় দুই কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক। যা এই এলাকার সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে পর্যটকদের কাছে। হাঁটু পর্যন্ত পানির নিচে ডুবন্ত এই সড়কটিতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন হাওরের সৌন্দর্য।

পানিতে দাঁড়িয়ে কিংবা কখনও হেঁটে হেঁটে আপনার ঘুরতে আসা সময়টুকু আরও একটু রোমাঞ্চকর করে তুলবে মাঝে মাঝে হাওর হতে আসা ঢেউগুলো, যা এখানে দাঁড়িয়ে আপনাকে কল্পনায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সমুদ্র সৈকতে। সেইসঙ্গে আপনি উপভোগ করতে পারবেন জলরাশির ওপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। যা দেখতে এখানে ভিড় জমায় কাছের ও দূরের মানুষ।

এছাড়া হাওরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেড়াতে উচিতপুর ঘাটেই অনেক নৌকা আছে। সেসব নৌকা ঘণ্টা হিসেবের ভাড়ায় আপনি ঘুরতে পারেন পুরো হাওর।

যেভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার মহাখালী থেকে শাহজালাল বাসে করে সোজা চলে যাবেন নেত্রকোনার পাল্লা বাসস্ট্যান্ডে। ভাড়া নেবে আড়াইশ টাকা। এরপর নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডের আদি গয়নাথের বালিশের দোকানে ঢু মেরে রিকশায় করে চলে যাবেন পাটপট্টি। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চলে যাবেন ৩৪ কিলোমিটার দূরের উচিতপুর হাওরে। ভাড়া নিতে পারে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা। এছাড়া আশিক পরিবহনের একটি বাস রাতে সাড়ে ১১টায় মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ে। উচিতপুর পৌঁছে ভোর চারটার মধ্যে। ভাড়া তিনশ টাকা। সকালে শাহজালাল পরিবহনের একটি বাস মহাখালী থেকে সরাসরি মদন গিয়ে পৌঁছে।

সতর্কতা
উচিতপুর হাওরে গিয়ে ট্রলারে বা নৌকায় উঠলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করবেন। কারণ আপনার আনন্দভ্রমণ যেন কখনোই সারাজীবনের কান্না না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

একুশে সংবাদ/আর/এআরএম

Side banner