বিশ্বকাপে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে চলমান বিতর্কের পর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচে স্টেডিয়ামের ভেতরেও একজন রিজার্ভ ভিএআর কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে মূল ভিএআর কার্যক্রম আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্র (আইবিসি) থেকে পরিচালিত হবে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, ডালাসের কেন্দ্রীয় ভিএআর হাবের সঙ্গে স্টেডিয়ামের যোগাযোগে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে মাঠে অবস্থানরত রিজার্ভ ভিএআর কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব নেবেন। এতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ম্যাচ পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
শেষ ষোলোর কয়েকটি ম্যাচের পর ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, রেফারিংয়ে তাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। একই ধরনের মন্তব্য করেন দলের উইঙ্গার মোস্তফা জিকো।
অন্যদিকে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহর লাল কার্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আরও ধারাবাহিকতা ও নির্ভুলতা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি বলেন, ফিফার ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব তাদের সিদ্ধান্তে পড়ে না। এমনকি ফিফা সভাপতিরও রেফারিং সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্য সানের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে মূল ভিএআর কর্মকর্তা ছিলেন আর্জেন্টিনার হারনান মাস্ত্রানগেলো এবং স্টেডিয়ামে রিজার্ভ ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন নিকারাগুয়ার তাতিয়ানা গুজমান।
এদিকে চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের পরিধিও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন শুধু গোল, পেনাল্টি কিংবা সরাসরি লাল কার্ড নয়, ভুলভাবে দেওয়া কর্নার, ফ্রি-কিক, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া এবং আক্রমণভাগের ফাউলের মতো ঘটনাও ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা যাবে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ কমাতে নতুন নিয়মও চালু করেছে ফিফা। বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। অযথা সময় নষ্ট করলে বদলি খেলোয়াড় পরবর্তী খেলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামতে পারবেন না এবং ওই সময় দলকে একজন কম নিয়ে খেলতে হবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রো-ইন বা গোল কিক না নিলে প্রতিপক্ষ সুবিধা পাবে। মাঠের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে এবং সে সময় তার দল একজন কম নিয়ে খেলবে।
শৃঙ্খলা রক্ষায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। সংঘর্ষের সময় মুখ ঢেকে কথা বলা, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ ত্যাগ করা কিংবা ম্যাচ বর্জনের মতো ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ফিফার আশা, নতুন ভিএআর ব্যবস্থা এবং সংশোধিত নিয়মগুলো টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা বাড়াবে এবং রেফারিং-সংক্রান্ত বিতর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

