হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৫ রানের হতাশাজনক হার দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ের পরও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় ১৪১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
সোমবার (৬ জুলাই) টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। শুরুতে জিম্বাবুয়ে ভালো সূচনা করলেও তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্রুত ধস নামে তাদের ইনিংসে।
তাসকিন প্রথম স্পেলে বেন কারান (১৮), ব্রায়ান বেনেট (১৭) ও ক্রেইগ আরভিনকে (০) ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেন। এরপর নাহিদ রানা একাই ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তিনি সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধভেরে (০), ক্লাইভ মাদান্দে (২), ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬), ব্র্যাড ইভান্স (৩) ও অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভাকে (২৭) আউট করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ছয় উইকেটের কীর্তি গড়েন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান ন্যামহুরি ৫১ বলে ৩৩ এবং এনগারাভা ৪১ বলে ২৭ রান করে নবম উইকেটে ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
১০ ওভারে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক হন নাহিদ রানা। তিনি ছাড়িয়ে যান মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেনের আগের রেকর্ড।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৭ রানেই ফিরে যান তিন ব্যাটার—তানজিদ হাসান (৮), নাজমুল হোসেন শান্ত (৩) ও সৌম্য সরকার (৬)।
এরপর তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগালেও হৃদয় ২৫ রান করে ফিরলে আবার ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট হয় টাইগাররা।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। এছাড়া হৃদয় করেন ২৫ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স তিনটি করে উইকেট নেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান ন্যামহুরি শিকার করেন দুটি করে উইকেট। ব্যাট হাতে ৩৩ রান এবং বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ন্যামহুরি।
তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ জুলাই। সিরিজে সমতা ফেরাতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প থাকবে না বাংলাদেশের।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

