বিশ্ব ফুটবলে এখন আর ‘আন্ডারডগ’ তকমায় সীমাবদ্ধ নেই মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার পর নিজেদের শক্তির প্রমাণ ধারাবাহিকভাবেই দিয়ে আসছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ফলে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের লড়াই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে হারানোর পর নকআউট পর্বে স্পেন ও পর্তুগালকে বিদায় করে শেষ চারে জায়গা করে নেয়। সেই সাফল্যকে অনেকেই অঘটন বললেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দলটি প্রমাণ করেছে, তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি, যিনি ক্লাব ফুটবলেও ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাচ্ছেন। আক্রমণভাগে ব্রাহিম দিয়াজের অন্তর্ভুক্তি মরক্কোর শক্তি আরও বাড়িয়েছে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোও দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পারফরমার।
তবে ইনজুরি কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মরক্কোর জন্য। গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার নায়েফ আগুয়ের্দ এবং ফরোয়ার্ড আবদে এজ্জালজৌলি চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন, যা দলটির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মরক্কোর বর্তমান সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে জন্ম নেওয়া মরক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করার কৌশল সফল হয়েছে। আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও সফিয়ান আমরাবাতদের মতো খেলোয়াড়রা সেই নীতির সফল উদাহরণ।
জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক পর্যায়েও উন্নতি করেছে মরক্কো। যুব ফুটবলে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের ফুটবল কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বড় বিনিয়োগ করছে দেশটি। ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হিসেবে মরক্কো নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিদ্যমান ভেন্যুর আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সব মিলিয়ে কৌশলগত শৃঙ্খলা, সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের কারণে মরক্কো বর্তমানে যে কোনো শীর্ষ দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ে ব্রাজিলের জন্য সহজ কোনো পরীক্ষা অপেক্ষা করছে না; বরং সেলেসাওদের সেরাটা খেলেই জয় নিশ্চিত করতে হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

