ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটার যেন পরিণত হয়েছিল এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। রাত ৯টার পর সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল মঞ্চে উঠতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা। একে একে ফুটবলারদের নাম ঘোষণা করা হলে তারা মঞ্চে আসেন, আর অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ট্রফি হাতে দাঁড়াতেই মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন।
ইনজুরির কারণে মালদ্বীপে যেতে না পারা ফুটবলার আশিকুর রহমান ক্র্যাচ নিয়েই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী তার হাতেই ট্রফি তুলে দিয়ে দলের ঐক্যের প্রতীকী বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন প্রবাসী দুই ফুটবলার রোনান ও ডেকলান সুলিভান। সমর্থকদের ডাকের জবাব দিতে দিতে তারা উপভোগ করেন এই সংবর্ধনা। দলের অন্যান্য সদস্যরাও আনন্দঘন এই আয়োজন উপভোগ করেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজের সাফ জয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে আমি যেভাবে সেভ করেছিলাম, এবার মাহিনও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।’
এর আগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিলেও তার পরিমাণ প্রকাশ করেননি প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানেও তিনি চমক রেখে জানান, জাতীয় ক্রীড়া দিবস (৬ এপ্রিল) উপলক্ষে পুরস্কারের অঙ্ক ঘোষণা করা হবে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাফুফে সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১ লাখ টাকা এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও খেলোয়াড়দের ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘এই ট্রফির পেছনে আমাদের অনেক পরিশ্রম। আমরা এই সাফল্য দেশবাসীকে উৎসর্গ করছি।’
রোনান ও ডেকলান সুলিভান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, তারা বাংলা বলতে না পারলেও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত।
দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই দলকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও আগামী এক দশকের মধ্যে এই দলকে বড় মঞ্চে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সবমিলিয়ে, আলো-ঝলমলে আয়োজন আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিল সাফজয়ী এই তরুণ দল।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

