AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন


Ekushey Sangbad
স্পোর্টস ডেস্ক
০৪:০২ এএম, ২০ জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

শুরুটা হয়েছিল গোলশূন্য ড্র দিয়ে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্পেনকে দেখে শিরোপার দাবিদার মনে হয়নি অনেকেরই। তবে এরপর একের পর এক জয়ে নিজেদের বদলে ফেলে লা রোজা। দুর্দান্ত রক্ষণ, ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় তারা পৌঁছে যায় ফাইনালে। সেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জয় করে স্পেন।

পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় এবং গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেন গোল না পেলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের একের পর এক দুর্দান্ত সেভই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন জয়ের গোলটি আদায় করে নেয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর সমন্বিত আক্রমণ থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক মার্টিনেজের দৃঢ়তায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। কিছুক্ষণ পর মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউলের অভিযোগে স্পেন পেনাল্টির দাবি তুললেও রেফারি তা নাকচ করে দেন।

আর্জেন্টিনাও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। সপ্তম মিনিটে লিওনেল মেসি বিপজ্জনক অবস্থানে পৌঁছালেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত এগিয়ে এসে সুযোগ নষ্ট করে দেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্পেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। ফাবিয়ান রুইজের পাস থেকে ওয়ারজাবালের নেওয়া জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ পর তাকে বদলি করে মাঠে নামানো হয় নিকোলাস ওতামেন্দিকে।

প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেনের দখলে ছিল ৬৫ শতাংশ বল। তারা গোলমুখে একাধিক শট নিলেও আর্জেন্টিনা একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। পাস, আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের বক্সে প্রবেশ—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিক পরিবর্তন আনে। নিকোলাস গঞ্জালেজের জায়গায় মাঠে নামেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তবে মাঠে নেমেই রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন।

মাঝে কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছায় লা রোজা। ফাবিয়ান, দানি ওলমো, কুকুরেয়া, ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের একাধিক প্রচেষ্টা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ রুখে দেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণও কয়েকবার শেষ মুহূর্তে বিপদ সামাল দেয়।

শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ইনজুরি সময়ে ইয়ামালের নেওয়া বিপজ্জনক ফ্রি-কিকও দারুণ সেভ করেন মার্টিনেজ, ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়। তবে স্পেনের চাপ অব্যাহত থাকে।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন ফেরান তোরেস। বদলি হিসেবে নেমে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

এরপর তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি গণ্য হয়নি। শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকেও সমতা ফেরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!