এশিয়ান কাপের বর্তমান ও সর্বোচ্চ শিরোপাধারী চীনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাহসী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও সংগঠিত ফুটবল দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ছয় হাজারের বেশি দর্শক, যাদের বড় একটি অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি। এশিয়ান মঞ্চে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে তারা প্রত্যক্ষ করেছেন বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর একটি চীনের বিপক্ষে লাল-সবুজের সাহসী প্রতিরোধ।

ফিফা র্যাংকিংয়ে চীন যেখানে ১৭ নম্বরে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২। কাগজে-কলমে বিশাল ব্যবধান থাকলেও মাঠের খেলায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে। রক্ষণভাগে সতর্কতা বজায় রেখেও মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে ঋতুপর্ণারা। আক্রমণেও একাধিকবার চীনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছে দলটি।

চীনের তুলনায় শারীরিক শক্তি ও কারিগরি দক্ষতায় পিছিয়ে থাকলেও ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তায় পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। বল দখলের লড়াই কিংবা প্রতিপক্ষকে তাড়া করতে গিয়ে খুব বেশি ব্যবধান চোখে পড়েনি।
প্রথম গোলের জন্য ৪৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় চীনকে। ম্যাচের ২২ মিনিটে চীনের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ায় তাদের হতাশা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং দূরপাল্লার শটে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডিফেন্সে কয়েক দফা বল ক্লিয়ার করতে না পারার সুযোগে ঝাং রুইয়ের শট দুই ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। এই গোলটিও ভিএআরে পরীক্ষা হলেও সিদ্ধান্ত যায় চীনের পক্ষে।

দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে আরও উন্নতি করে বাংলাদেশ। রক্ষণে সীমাবদ্ধ না থেকে আক্রমণেও ওঠার চেষ্টা করে দলটি। শুরুতেই তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ— উমহেলা, শিউলি ও নবীরনের জায়গায় মাঠে নামেন তহুরা, হালিমা ও স্বপ্না। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রহমানের।

গোলরক্ষক মিলি আক্তার প্রথম দিকে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। বিশেষ করে একক দক্ষতায় লাফিয়ে ও হাত বাড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচানোর মুহূর্তটি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা চীনা ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সের দিকে এগিয়ে যান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোল হয়নি। চীনের গোলরক্ষক চেন চেন শূন্যে লাফিয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন। গোল হলে সেটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।

এই ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাও পেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের একটি আক্রমণ পেনাল্টি কি না, তা ভিএআরে যাচাই করা হলেও রেফারি স্পট কিকের সিদ্ধান্ত দেননি। তবে চীনের একটি গোল বাতিল হওয়ায় প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাবও দেখা গেছে।

৯০ মিনিটের লড়াই শেষে চীন ২-০ গোলে জয় পেলেও ম্যাচ শেষে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ দলই। অভিজ্ঞতা ও শক্তিতে পিছিয়ে থেকেও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে সমানে সমান লড়াই করে ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার বার্তা দিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

