AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
আসন্ন বর্ষা মৌসুম

নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শঙ্কা


Ekushey Sangbad
স্টাফ রিপোর্টার
০১:০২ এএম, ২ এপ্রিল, ২০২৬

নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শঙ্কা

প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীতে তীব্র জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি ডুবে যায়। ফলে গত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও বড় ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো ঝুঁকি এড়াতে সিটি করপোরেশনগুলো খাল পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের মত পদক্ষেপ নিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীণ সরকার। এর অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে নগরের দুই সিটিতে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। যার মধ্যে ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব বর্জ ঢাকার ড্রেন, নালা আর খালে গিয়ে পড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরে বিগত বছরগুলোর চেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।  কারণ অন্যান্য বছর দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর থাকার ফলে কিছুটা হলেও ড্রেন ও খাল সংস্কার করা হতো। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিনিধিরা না থাকায় এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্যক্রম হয়নি। ফলে আগের তুলনায় পানি চলাচলের ড্রেনগুলোতে আরও বেশি আবর্জনা জমা হয়েছে। এতে করে বৃষ্টির পানি চলাচল বাধা সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করছেন সবাই। এতে করে স্বল্প বৃষ্টি হলেই তৈরি হবে জলাবদ্ধতা। এমনিতেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই স্বল্প ও মাঝারি বৃষ্টিতে ঢাকার অধিকাংশ এলাকা ডুবে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয় জনভোগান্তি।

নগরবাসীদের অভিযোগ, চলতি বছরে জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কোনো ধরনের কাজ করা হয়নি। তা ছাড়া ঢাকার সব নদী-খাল দখল হয়ে যাওয়ায় ঘণ্টাখানেক বৃষ্টিতেই কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও বা কোমরসমান পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও বেশিরভাগ ড্রেনে পলিথিনসহ ময়লা জমার কারণে পানি নামতে না পারায় অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীর। বৃষ্টির মৌসুমে রাজধানীতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশিও যানজটে অসহনীয় ভোগান্তিতেও পড়তে হয়। বৃষ্টির সময় প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিও ডুবে যায়। খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অফিসগামী যাত্রী ও পথচারীরা হন নাকাল। সড়কগুলোতে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট, হেঁটে গন্তব্যে যেতেও পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। বিশেষ করে নগরীর নিচু এলাকা তলিয়ে যায় পানির নিচে। নগরীতে যত প্রাকৃতিক খাল আছে তার অনেকাংশ দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লা-আবর্জনায় নর্দমা ও প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহের ক্ষমতা অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দেখা দেয়। তবে সিটি করপোরেশন সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য। এগুলো ঢাকার ড্রেন, নালা আর খালে গিয়ে পড়ে। এসব বর্জ্য খালে বা ড্রেনে আটকে থাকে, যে কারণে পানি নামতে পারে না। আবার কিছু খাল এখনও দখল অবস্থায় আছে। বাকিগুলো যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, তা দিয়ে পানির প্রবাহ সম্ভব নয়। ফলে বৃষ্টি হলেই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। সাধারণত ঢাকার পানি তিনটি মাধ্যমে আশপাশের নদ-নদীতে গিয়ে পড়ে। এগুলো হচ্ছে-পাম্প স্টেশন, স্লুইসগেট ও খাল। বর্তমানে বেশ কয়েকটি পাম্প স্টেশন নষ্ট হয়ে আছে। একইভাবে স্লুইসগেটগুলোও অকেজো অবস্থায় আছে। আর খালগুলোর অবস্থা ভালো নয়, সেগুলো পানি প্রবাহের জন্য উপযুক্ত নয়। অবৈধ দখলের পাশাপাশি নানা বর্জ্য জমে খালগুলোতে কয়েক স্তরের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) গবেষণা অনুযায়ী, রাজধানীর দখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর মধ্যে মাত্র ১৫টি খাল খনন করলেই অবিরাম জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রায় ৮০ শতাংশের সমাধান হতে পারে। স্বাধীনতার পর ঢাকায় ৫৭টি খাল থাকলেও বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ২৬টিতে, যার অধিকাংশের অবস্থাই বেশ নাজুক। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানী। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। আরডিআরসির গবেষণায়, ৯টি জলাবদ্ধতার ‘হটস্পট’ হলো-পল্লবী শিয়ালবাড়ি, রূপনগর ও ইস্টার্ন হাউজিং, কালশী ও মিরপুর ১১, টোলারবাগ, আহমেদনগর ও পাইকপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও কাফরুল, কলাবাগান, ধানমন্ডি ২৭, কাঁঠালবাগান, গ্রিনরোড ও হাতিরপুল, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ, রায়েরবাজার, পশ্চিম ধানমন্ডি ও ঢাকা নিউমার্কেট, রামপুরা ও বাড্ডা, সূত্রাপুর, ওয়ারী, নবাবপুর, কাজী আলাউদ্দিন রোড, সিদ্দিক বাজার, নারিন্দা ও তাঁতীবাজার এবং জুরাইন, সিদ্ধিরগঞ্জ, জাকের মঞ্জিল, শ্যামপুর, পূর্ব জুরাইন, সাদ্দাম মার্কেট ও রায়েরবাগ। এ ছাড়া চিহ্নিত খালগুলো হলো—রূপনগর মেইন খাল, বাউনিয়া খাল, বাইশতেকি খাল, সাংবাদিক কলোনি খাল, কল্যাণপুর খাল, ইব্রাহিমপুর খাল, পান্থপথ বক্স কালভার্ট খাল, রায়েরবাজার খাল, জিরানী খাল, রামপুরা খালের দক্ষিণ প্রান্ত, ধোলাইখাল, কদমতলী খাল ও মান্দা খাল।

২০২১ সালের আগে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার হাতে থাকলেও ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসা আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব (খাল ও ড্রেনেজ) দেওয়া হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। কিন্তু অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। বরং গত এক যুগে জলাবদ্ধতা নিরসনে সবমিলিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তারা ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা মহাপরিকল্পনাকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু টাকা খরচ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া ঢাকার জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না। ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য জনগণকে জলাশয়ের নিজ নিজ অংশ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়ে জলাশয় তৈরিতে উৎসাহিত করতে হবে। যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায়, খননের জন্য চিহ্নিত খালগুলো ওইসব এলাকার সঙ্গে যুক্ত কি না সেটি খেয়াল রাখা হয়েছে।


কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এর সঙ্গে। তিনি কালের সমাজকে বলেন, জলাবদ্ধতা দূূর করতে খাল খননের কাজ চলমান আছে। এখন ময়লা পরিষ্কারের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছি। তারপর পলি মাটি ওঠাব যাতে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। রাজধানীর সব ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। আমাদের বাকি ডিএনডি খালগুলোও পরিষ্কার করব। বক্স কালভার্টগুলো পরিষ্কার করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে। 


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম কালের সমাজকে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে এর পরিমাণ আগের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর নেই। যার ফলে রাজধানীর ড্রেনগুলো কোনো ধরনের পরিষ্কার হয়নি। এতে করে এগুলোতে ময়লা জমে পানি চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। বৃষ্টির পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এখনও যদি সিটি করপোরেশন খাল খনন ও ড্রেনগুলোকে পরিষ্কার করেন তা হলে হয়তো কিছু কমে আসবে। তবে অল্প সময়ে তারা কখনো শেষ করতে পারবেন না। তা ছাড়া অন্যান্য বছরে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা থাকার পরেও বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। এই মৌসুমে কাজ হয়নি বললেই চলে। তাই সবাইকে জলাবদ্ধতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। 
মতিঝিল-ধানমন্ডিসহ ঢাকা দক্ষিণে জলজটের ৩৩ হটস্পট: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় জলাবদ্ধতা বা জলজটের জন্য ৩৩টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি হটস্পট রয়েছে অঞ্চল-২ এ। এ অঞ্চলে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত। এরপর অঞ্চল-১ এ ৮টি হটস্পট রয়েছে। এই অঞ্চলে রাজধানীর ধানমন্ডি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে। তবে অঞ্চল-৩, ৪ ও ৫ এ কিছু হটস্পট থাকলেও অঞ্চল-৬, ৭ ও ৯ এ কোনো হটস্পট চিহ্নিত করা হয়নি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় জলাবদ্ধতা নিরসনসংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। এসব হটস্পট চিহ্নিত করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৪টি খাল, ৪টি বক্স কালভার্ট ও ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরে ডিএসসিসি থেকে ওই জলাবদ্ধতার হটস্পটের একটি তালিকা পাওয়া যায়। তালিকা অনুযায়ী স্থানগুলো হলো-ধানমন্ডি ২৭ (রাপা প্লাজা), গ্রিন রোড (রূপায়ণ টাওয়ার), নিউ মার্কেট (হকার্স মার্কেট ও সাইকেল স্ট্যান্ড), নায়েম গলি (ঢাকা কলেজের পাশে), ইস্কাটন গার্ডেন রোড (নেভি কলোনি), পলাশী (এসএম হলের সামনে), পিজি হাসপাতালের সামনে (সাকুরা হোটেলের নিকটবর্তী)। এ ছাড়া ঢাবি মোকাররম ভবনের সামনে (ওয়াসা অফিস সংলগ্ন), পশ্চিম মালিবাগ সম্পূর্ণ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, আনন্দ বেকারি, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, টিটিপাড়া ট্রাক স্ট্যান্ড, মুগদা মেডিকেলের সামনে, গুদারাঘাট নৌকাপাড়ের সামনে, গোপীবাগ বড় মসজিদের সামনে, চানমারী মোড় (শাহজাহানপুর মোড়)। পাশাপাশি কমলাপুর রেলস্টেশনের বিপরীতে সামিয়া হোটেলের সামনে, শাপলা চত্বরের উত্তর-পূর্ব পাশে ফুটওভার ব্রিজের নিচে, নটরডেম কলেজের সম্মুখে, সবুজকানন ১ম, ২য় ও ৩য় গলি। তালিকায় আরও রয়েছে-মালিবাগ ১ম লেন, শান্তিবাগ ১৭ নম্বর গলি, শান্তিনগর (হক বেকারির সামনে), পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনে, বোর্ড অফিস ও বুয়েট কোয়ার্টার, ঘোষপট্টি, আগা সাদেক রোড (বাংলাদেশ মাঠ সংলগ্ন)। এ ছাড়া মাজেদ সরদার রোড, সাজেদা ফাউন্ডেশন সংলগ্ন, অভয় দাস লেন, কালেক্টর গলি, ১২ নম্বর গলি, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন ও মুন্সিবাড়ি, পাইপ রাস্তা, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে করাতিটোলা জিয়া সরণি রোড এলাকা জলাবদ্ধতা বা জলজটের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএসসিসি। একইদিন মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত সড়ক ও নর্দমা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ডিএনসিসির অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪-এর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো এবং অঞ্চল-৫-এর সার্ভিস প্যাকেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। মঙ্গলবার মিরপুর-১০ ফলপট্টিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক এবং উভয় পাশে নর্দমা ও ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে এই এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। এ সময় মো. শফিকুল ইসলাম খান ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখল বা দোকান বসানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আপনাদের আমার কাছে আজ কমিটমেন্ট করতে হবে ফুটপাত যেন দখলমুক্ত থাকে, সে জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে স্থানীয়ভাবে আপনারা কাজ করবেন। প্রশাসক আরও বলেন, আগের মতো একই সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি এবং অর্থের অপচয় যাতে না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিদিন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বৃষ্টির সময় বেগম রোকেয়া সরণির জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং জনগণের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মাহবুব আলম, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
 

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!