ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

আধা মণ পেঁয়াজে এক তরমুজ


Ekushey Sangbad
জেলা জামালপুর প্রতিনিধি
০১:৪১ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২২
আধা মণ পেঁয়াজে এক তরমুজ

জামালপুরের মেলান্দহে রমজানে অন্যান্য নিত্যপন্যের দাম বাড়লেও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এমনকি আধা মন পেঁয়াজের দামে কিনতে হচ্ছে একটি তরমুজ।

উপজেলায় পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন ও রমজানের শুরুতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ফলে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত যোগান থাকা সত্বেও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। এই  অবস্থায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেশি পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা পুরনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায়,
কয়েকদিন আগেও মণপ্রতি পাইকারি ৮৫০- থেকে ১০৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলার কৃষক রমজান আলী বলেন,
গত হাটবারেও পেঁয়াজের দাম ভালো ছিলো ভেবেছিলাম রোজার মধ্যেই সব ফসল ঘরে তুলব
সে জন্য রোজার শুরু থেকেই মাঠ থেকে পেঁয়াজ  বাড়ি আনতে শুরু করি বাড়ির সবাই পেঁয়াজ ছাড়াতে ব্যস্ত এখনো।  তিন মণ পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য পাইকারি বাজারে গিয়েছিলাম প্রতি কেজি পেয়াজ মাত্র ১৪ টাকা করে বিক্রি করেছি। বাড়ি থেকে বলে দিয়েছে যাওয়ার সময় যেনো তরমুজ আর ছোলা নিয়ে যায় একটি বড় তরমুজের দাম ৩০০-৪৫০ টাকা একটি বড় তরমুজ কিনতে হচ্ছে আধামণের বেশি পেঁয়াজের দামে! এমন হলে আমাদের মতো পেঁয়াজচাষীরা কিভাবে সংসার চালাবে।

রহমত নামে একজন বলেন, প্রতিমণ পেঁয়াজ চাষ থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হয় শ্রমিক খরচ সহ ৭০০ টাকা লেগেছে সেই পেঁয়াজ ৬০০ টাকায় বিক্রি করলাম। এতে খরচের টাকাও উঠছে না।

জহির উদ্দিন নামে আরো এক পেঁয়াজচাষী বলেন, যখন কৃষক দেশি পেঁয়াজ মাঠ থেকে বাড়ি আনতে শুরু করেছে তখনই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে এতে পেঁয়াজের দাম এতোটাই কমেছে যে চাষের খরচ ও উঠছে না। এভাবে আমাদের বেচে থাকা সম্ভব না।

আমরা যারা সারা বছর চাষাবাদ করি তাঁরা মৌসুমি ফসল বিক্রি করেেই রমজানের খরচ চালাই। কিন্তু পেঁয়াজ এখন ১৪-১৫ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি ৫০০-৬৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শতক প্রতি দেড় মন পেঁয়াজে ১ হাজার টাকার বেশি খরচের টাকাটাই উঠছে না।

গ্রামের ঘরে ঘরে এখন দেশি পেঁয়াজ। দাম যদি এমনই থাকে তাহলে পেঁয়াজ রাস্তায় ফেলে দিতে হবে কি না সে চিন্তায় আছি জহির শেষ আরও বলেন, এখনই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে আমাদের কিছুদিন বিক্রির সুযোগ দিলে আমরা খরচের টাকাসহ কিছুটা লাভ করতে পারতাম ঋনগুলো শেষ করা যেত ঘরে ১৫ মণ পেয়াজ এখন দামে বিক্রি করে এবারের ইদ ভালো যাবে না আমার পরিবারের।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, ভারত থেকে প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজের আমদানি  হয়েছে। সে পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৩৫০-৫০০ টাকায়  ফলে দেশি পেয়াজের দাম কমে গেছে।

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, ভারত থেকে আমদানীর পাশাপাশি উপজেলার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হওয়ায় দাম এতটা কমে গেছে। চাহিদার চেয়ে পেঁয়াজের জোগান বেশি হয়ে গেছে।
চাষিদের উচিত কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা।

 

 

একুশে সংবাদ /এসএম