ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।
তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।
ডাক্তারি বা হাদিসভিত্তিক কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম না থাকলেও, ছোটদের প্রতি স্নেহ এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হলো সেলামির মূল উদ্দেশ্য। এটি ইসলামে জায়েজ এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ বৃদ্ধির একটি সুন্দর সামাজিক রীতি।
তবে সেলামির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ঈদের সকালে বড়দের সালাম করা এবং সাহাবিদের সুন্নাহ অনুযায়ী একে অপরকে দোয়া বিনিময় করা। দোয়াটির মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”, অর্থ—“আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।”
পা ছুঁয়ে সালাম দেওয়া ইসলামি সংস্কৃতির পরিপন্থি। সাধারণত সালাম দেওয়া এবং দোয়া বিনিময় করাই সঠিক।
ঈদের দিনের সুন্নাহ:
সকালে গোসল করা
ভালো পোশাক পরিধান করা
নামাজে যাওয়ার আগে কিছু মিষ্টিজাতীয় (যেমন খেজুর) খাওয়া
নামাজের পর একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা
ঈদের সেলামি এবং শুভেচ্ছা মূলত আনন্দ ও সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি করার জন্য, যা ইসলামের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

