গর্ভাবস্থায় একজন নারীর খাদ্যাভ্যাস শুধু তার নিজের সুস্থতার জন্য নয়, গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিক বা প্রথম তিন মাস ভ্রূণের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের সময় হওয়ায় এ সময় পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে এই সময় অনেকেরই মর্নিং সিকনেস, বমি বমি ভাব বা খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়, যা স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই এ সময় পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যজনিত ঝুঁকি এড়িয়ে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ত্রৈমাসিকে কী খাবেন
গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক (১-১২ সপ্তাহ) হলো অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের একটি সময়। এই প্রথম সপ্তাহগুলোতে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকশিত হতে শুরু করে, যার ফলে সুস্থ বৃদ্ধির জন্য ভালো পুষ্টি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
এই সময়ে অনেক নারী মর্নিং সিকনেস, খাবারের প্রতি অনীহা, ক্লান্তি এবং ক্ষুধার পরিবর্তন অনুভব করেন, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে আরও কঠিন করে তোলে।
মূল বিষয় হলো সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ওপর মনোযোগ দেওয়া এবং এমন খাবার এড়িয়ে চলা যা আপনার বা আপনার শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গর্ভাবস্থার প্রথম তিনমাসে কোন খাবারগুলো খাওয়া বেশি উপকারী-
১. ফোলেট-সমৃদ্ধ খাবার
ফোলেট (ভিটামিন বি৯) নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডকে প্রভাবিত করে।
পালং শাক, ব্রোকলি, মসুর ডাল, ছোলা, কমলালেবু, অ্যাভোকাডো এবং ফোলেট সমৃদ্ধ সিরিয়ালের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টের পরামর্শও দিতে পারেন।
২. প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার
প্রোটিন আপনার শিশুর দ্রুত বিকাশমান টিস্যু এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সহায়তা করে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম, চর্বিহীন মুরগির মাংস, কম পারদযুক্ত মাছ, পনির, টোফু, শিম, ডাল এবং দুগ্ধজাত খাবার যোগ করার চেষ্টা করুন।
৩. হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য
শক্তি এবং ফাইবারের জন্য হোল হুইট, ওটস, ব্রাউন রাইস, মিলেট এবং কিনোয়া বেছে নিন। এই খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে, যা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে একটি সাধারণ সমস্যা।
৪. ফল ও শাক-সবজি
বিভিন্ন রঙের ফল ও শাক-সবজি ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার সরবরাহ করে। লেবু জাতীয় ফল, বেরি, কলা, গাজর, মিষ্টি আলু এবং পাতাযুক্ত শাক-সবজি চমৎকার কাজ করতে পারে।
৫. ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি
ক্যালসিয়াম আপনার শিশুর বাড়ন্ত হাড় ও দাঁতকে সহায়তা করার পাশাপাশি আপনার নিজের হাড়ের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। দুধ, দই, পনির, রাগি, তিল এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে।
৬. পর্যাপ্ত পানি পান
ডাক্তার অন্য কোনো পরামর্শ না দিলে প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন। ডাবের পানি, স্যুপ, ঘোল এবং ফলের রস মেশানো পানিও শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার বমি বমি ভাব হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

