ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ডিম পেশি গঠন, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
তবে যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, অতিরিক্ত ডিম খাওয়া সব সময় ভালো নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডিম খেলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে আরও কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ডিম খেলে কী হতে পারে?
ডিমে প্রচুর প্রোটিন থাকে। একসঙ্গে বা নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার যেমন ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্য না থাকলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল, বদহজম কিংবা খাবারের পর ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আবার কিছু মানুষের ডিমে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর বমিভাব, পেটব্যথা, ত্বকে হালকা র্যাশ বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের প্রোটিনের প্রধান উৎস যদি শুধু ডিমই হয়, তাহলে শরীর অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কম পাবে। অন্যদিকে, যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া ডিম রান্নার সময় অতিরিক্ত মাখন, চিজ, ক্রিম বা প্রক্রিয়াজাত মাংস ব্যবহার করলে খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
পুষ্টিবিদ রুপালি দত্তর মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি ডিম তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়ক।
তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে প্রায় তিনটি ডিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উপকারী হতে পারে। তবে ভালো হয় চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিলে।
ডিম আপনি কীভাবে খাচ্ছেন সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সেদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে ঝুড়া ডিম তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, সালাদ বা পূর্ণ শস্যজাত খাবার যোগ করলে খাবারটি আরও পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য হয়।
ডিম পুষ্টিকর খাবার এতে সন্দেহে নেই। তবে অতিরক্ত খাওয়া ভালো না। ডিম খাওয়ার বিষয়েও কয়টা খাচ্ছেন সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। অতিরিক্ত ডিম খেয়ে অসুস্থ না হওয়াই ভালো।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

