দর্শনা স্থল বন্দর থেকে কোটচাঁদপুর, যশোর, নড়াইল রুটে পদ্মা সেতু হয়ে আন্তঃনগর প্রভাতি ট্রেন চালুর দাবীতে কোটচাঁদপুর স্টেশনে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান কর্মসুচী পালন করেছেন কোটচাঁদপুর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন কমিটি।
সোমবার সকাল ১০ টার সময় স্থানীয় রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে এই কর্মসুচী পালন করেন তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে স্মারক লিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন,কোটচাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এস,কে,এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, কোটচাঁদপুর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক শরিফুজ্জামান আগা খান,উপজেলা জামায়াতের যুব মিডিয়া,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম,মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যপক শরিফুজ্জামান তুহিন,
কামরুজ্জামান রতন,কবি, সাহিত্যিক মিতুল সাইফ, রিপন হোসেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,ঝিনাইদহে দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম কোটচাদপুর রেলস্টেশন। এই স্টেশনের মাধ্যমে প্রতিদিন সহস্রাধিক যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। এই রুটে পদ্মা রেল সেতু চালু হলে আমরা আরো স্বল্প সময়ে, কম টাকা ব্যয়ে ঢাকা চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হবে। বৃদ্ধি পাবে সরকারের আয়।
তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। চালু হয়নি কোটচাঁদপুরের দিক দিয়ে যশোর-নড়াইল হয়ে পদ্মা রেল সেতু অভিমুখে আন্তঃনগর কোন ট্রেন। এ কারনে আজও এ অঞ্চলের যাত্রীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে না। তাই আমরা দর্শনা স্থলবন্দর স্টেশন থেকে কোটচাঁদপুর-যশোর-নড়াইল রুটে পদ্মা সেতু হয়ে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানাচ্ছি।
এ ছাড়া দর্শনা-খুলনা রেল লাইন সিঙ্গেল হওয়ায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। ক্রসিংয়ের কারণে সময় ক্ষেপণ এই লাইনের নিয়মিত ঘটনা বলে অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের। চাই ডবল রেল লাইন। এই রুটে রেললাইন ডবল হলে বাঁচবে সময়,কমবে ব্যয়। বৃদ্ধি পাবে এই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান।
বক্তারা আরো বলেন,আন্তঃনগর অনেক ট্রেনে শোভন শ্রেণির পর্যাপ্ত বগি নাই। স্বল্প আয়ের এবং দরিদ্র শ্রেণির যাত্রীদের শোভন শ্রেণিতে সীট না থাকায় আসন বিহীন টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। অন্যদিকে এসি বগিতে সীট খালি থাকে। এ সময় তারা এই রুটে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সংখ্যক শোভন শ্রেণির বগি সংযোজনের দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনের দ্বিতীয় প্লাটফর্ম যথেষ্ট দীর্ঘ নয় বলে উল্লেখ করেন। যার ফলে এই প্লাটফর্মে আন্তঃনগর ট্রেন থামলে কয়েকটি বগি প্লাটফর্মের বাইরে থাকে। ফলে বগিগুলো থেকে যাত্রীদের ওঠা-নামায় বেগ পেতে হয়। তাছাড়া প্লাটফর্মে ছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। সে কারণে আমরা কোটচাদপুর রেলস্টেশনের দ্বিতীয় প্লাটফর্ম দীর্ঘ করার এবং এর উপর ছাউনি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

