প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক। পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ও তথ্যযুদ্ধের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
রোববার (৫ জুলাই) প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে, যা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই অর্জনের জন্য তিনি পিজিআরের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই পিজিআরে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পেশাদারিত্ব, আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করাই প্রত্যাশিত। তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা, একনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ঘটবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় শুধু পিজিআর নয়, সব বাহিনীকেই আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে দক্ষ হতে হবে।
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখতে চান। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশপ্রেম, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনোই হুমকির মুখে পড়বে না।
পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করাই বাহিনীর সাফল্যের মূল ভিত্তি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

