কিছু ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না- থাকে মানুষের স্মৃতিতে, দীর্ঘশ্বাসে, অশ্রুতে। চুকনগর তেমনই এক নাম। যেখানে ইতিহাসের ভাষা রক্তে লেখা, আর মানুষের গল্প বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সেই ইতিহাসকে হৃদয়ের গভীর থেকে স্পর্শ করার এক সাহিত্যিক প্রয়াস দেখা যায় কবি পরিতোষ হালদার-এর এই উপন্যাসে।
এই উপন্যাসে চুকনগর কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, এটি হয়ে উঠেছে হারিয়ে যাওয়া মানুষের আর্তনাদ, ছিন্নমূল জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক অনমনীয় সংগ্রামের রূপক। লেখক ইতিহাসকে শুধু তথ্যের কাঠামোয় দাঁড় করাননি। তিনি তাকে মানুষের চোখ, মুখ, ক্ষুধা, ভালোবাসা, শোক এবং অপেক্ষার ভাষা দিয়েছেন।
পরিতোষ হালদারের লেখনিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা যেমন আছে, তেমনি আছে মানুষের অদম্য বেঁচে থাকার শক্তি। তিনি ঘটনাকে বর্ণনা করেন না, তিনি পাঠককে সেই সময়ের ভেতরে নিয়ে যান।
ফলে পাঠক কেবল পড়েন না, অনুভব করেন।কেবল জানেন না, মনের গভীরে বহন করেন। এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানবিকতা। এখানে ইতিহাস কোনো দূরবর্তী দলিল নয়, বরং জীবন্ত মানুষের জীবনকথা। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও উঠে আসে মানুষের আশা, সম্পর্ক, স্মৃতি এবং পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা।
চুকনগর গণহত্যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক শোকাবহ অধ্যায়। আর এই উপন্যাসে সেই শোককে ভাষা দিয়েছে, স্মৃতিকে সাহিত্য করেছে। ইতিহাস আমাদের মনে রাখতে শেখায়, কিন্তু সাহিত্য আমাদের অনুভব করতে শেখায়, পরিতোষ হালদারের এই কাজ সেই অনুভবেরই এক মর্মস্পর্শী সাহিত্যিক দলিল।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

