মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিবছরের মতো এবারও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নীতিনির্ধারণী বিষয়, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে। উদ্বোধনের পর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন।
সম্মেলনকে সামনে রেখে শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬ মে পর্যন্ত চলা এ আয়োজনের মোট ৩৪টি অধিবেশন রয়েছে। ডিসিদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি বিষয়ে আলোচনা হবে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কিত বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালগুলোতে এন্টিভেনম সহজলভ্য করা, উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নিশ্চিত করা, কওমি মাদরাসাকে নীতিমালার আওতায় আনা, নোয়াখালীতে বিমানবন্দর নির্মাণ এবং জেলা পর্যায়ে গুজব ও ভুয়া তথ্য যাচাই কেন্দ্র স্থাপনের মতো বিষয় রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত অধিবেশন ছাড়াও ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব থাকা উচিত নয়; দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বই মুখ্য হওয়া দরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিসি সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবগুলোর প্রায় ৪৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দিনশেষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা।
দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নির্ধারিত রয়েছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

