উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একটানা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ৪২টি দলের কোনো প্রার্থীই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল, সঙ্গে রয়েছেন কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বড় জয়
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পেয়েছে ২১২টি আসনে। এর মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৭টি আসন। জোটের শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন প্রত্যেকে একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দেয়। দলটি ২৯৩টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং বাকি কয়েকটি আসন জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা প্রতীক) পেয়েছে ২টি এবং খেলাফত মজলিস (ঘড়ি প্রতীক) একটি আসনে জয় পেয়েছে।
জামায়াত এবারের নির্বাচনে ২২৪টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের জন্য ছাড়ে।
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী
নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬টি আসনে জয় পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) পেয়েছে একটি আসন। এছাড়া একটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়, যা বিএনপির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ফলে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
৪২ দলের ভরাডুবি
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি দলের মধ্যে ৪২টি দল একটি আসনেও জয় পায়নি। অনেক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কৌশলগত ভোটের প্রবণতার কারণে ছোট ও নতুন দলগুলো প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।
ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। বাকিদের জন্য এবারের নির্বাচন থেকে গেছে হতাশার অধ্যায় হিসেবেই।
একুশে সংবাদ//এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

