বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি একে “ভয়ংকর অশনিসংকেত” হিসেবে অভিহিত করেন।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, গাজায় তথাকথিত ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী’ পাঠানোর প্রসঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বিরোধিতা না আসাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাঁর মতে, এই নীরবতা দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের একটি ইঙ্গিত বহন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ গড়ে তোলার আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শরিয়াহভিত্তিক নীতি গ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে—সে বিষয়েও কূটনৈতিকভাবে ভাবনা চলছে।
এ বিষয়ে ফরহাদ মজহারের মন্তব্য, এসব আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতের মধ্যে নীতিগত বোঝাপড়ার একটি ক্ষেত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম অবস্থান পরিষ্কার করছে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়—এমন উদাহরণ খুব কম। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণকে তিনি এর একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ফরহাদ মজহার একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন—১৭ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? তিনি বলেন, তিনি যুদ্ধ চান না, কাউকে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পক্ষেও নন। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ও ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রায়ই শোনা গেলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়, যা এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতার পরিচায়ক।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। বক্তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও মতামত তুলে ধরেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

