আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। এই নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ১ হাজার ৭৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট প্রার্থীর প্রায় সাড়ে ২৫ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের ঋণ বা আর্থিক দায়ে জড়িত। এসব প্রার্থীর সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির তথ্যমতে, ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণ বা দায়ের তথ্য রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা—তাদের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এই হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এ তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। এই দুই দলের ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
পেশাগত দিক থেকে দেখা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। মোট প্রার্থীর ৪৮ শতাংশেরও বেশি নিজেদের প্রধান পেশা হিসেবে ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া আইনজীবী ও শিক্ষক পেশায় যুক্ত প্রার্থী রয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে পেশাজীবী উল্লেখ করেছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষিত বাজারমূল্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২৭ জনের সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি।
টিআইবির বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি এসব দলের অন্তর্ভুক্ত, যা আগের পাঁচটি নির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ।
তবে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের হার এবারও কাঙ্ক্ষিত ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারেনি।
আইনি দিক থেকে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা চলমান রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া অতীতে মামলা ছিল এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৭৪০ জন, যা মোটের ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যোগসাজশের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থনির্ভর রাজনীতির প্রভাবে কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন—এমন তথ্য টিআইবির কাছে রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

