আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে শতাধিক ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড। এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ নীতিমালার আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে যেসব বাহিনী বর্তমানে মাঠে রয়েছে, তারা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যেখানে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় পুলিশ ও আনসার–ভিডিপির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে, যেখানে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর এক লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (এর মধ্যে স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০ জন), পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে মোতায়েন থাকবে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন।
তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে এবার ড্রোন নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২০০টি, নৌবাহিনীর ১৬টি, বিজিবির ১০০টি, পুলিশের ৫০টি, কোস্ট গার্ডের ২০টি, র্যাবের ১৬টি এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৬টি ড্রোন থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোরভাবে তা দমন করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

