পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাশ্রয়ীমূল্যে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ বাজারজাতকরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
উপদেষ্টা বলেন, “পলিথিনের বহুল ব্যবহার মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে। বিপরীতে পাটের ব্যাগ টেকসই, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। সরকার ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন পাওয়া গেলে জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় টিসিবি ডিলার ও বাজারের বণিক সমিতির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ বিক্রি করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে জনসাধারণকে পাটের ব্যাগ ব্যবহার ও পুনঃব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পাটপণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া বণিক সমিতি ও টিসিবি ডিলারদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রউফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলার্থে পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বন্ধ করা জরুরি। তারা সবাই অঙ্গীকার করেন, আর পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার করা হবে না।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে টিসিবির নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দোকান থেকে ব্যাগ পাওয়া যাবে। ব্যাগের মান ও সাইজ অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০, ২৫, ৩০, ৩৫, ৭০ ও ৮০ টাকা।
একুশে সংবাদ/এ.জে