অল্প পরিমাণ লবণ কফির তিক্ততা কমাতে পারে এবং স্বাদ কিছুটা মসৃণ লাগতে পারে। তবে বেশি লবণ মেশালে স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ে।
লবণ স্বাদের ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি কফির স্বাস্থ্য উপকারিতা খুব একটা বাড়ায় না। কারণ পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এমন সব যৌগ থাকে, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে কফিতে লবণ যোগ করলে শরীরে পানির পরিমাণ বাড়ে, অম্লতা কমে বা অতিরিক্ত খনিজ পাওয়া যায়, তবে এই দাবিগুলোকে সমর্থন করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুবই সীমিত। কফিতে সাধারণত যে পরিমাণ লবণ যোগ করা হয় তা পুষ্টিগুণ দেওয়ার জন্য খুবই কম, এবং এটিকে স্বাস্থ্য সম্পূরক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
এন্ডোক্রিনোলজি জার্নালে প্রকাশিত ২০১৩ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যারা কফি পান করেন না তাদের তুলনায় যারা কফি পান করেন তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে বেশি সুরক্ষিত থাকেন। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কফি পানের সাথে গ্লুকোজ ইনটলারেন্স, হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতার মতো সমস্যা কমার সম্পর্ক রয়েছে।
কাদের লবণসহ ব্ল্যাক কফি এড়িয়ে চলা উচিত?
যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা আছে, বা যাদের সোডিয়াম গ্রহণ সীমিত করতে হয়, তাদের নিয়মিত লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যারা নিয়মিত কফি পানে পেটের অস্বস্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য লবণ যোগ করার চেয়ে ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো, খালি পেটে কফি এড়িয়ে চলা বা কম অ্যাসিডিক কফি বেছে নেওয়া বেশি কার্যকরী সমাধান হতে পারে। কফির সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত প্রভাব মূলত নির্ভর করে গ্রহণের পরিমাণ, ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাত্রার অংশ কি না, এই ধরনের বিষয়গুলোর ওপর।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

