স্ট্রেস হলে শরীরটা ভারী লাগে, মাথা গরম হয়, মন অস্থির হয়? এর পেছনে বড় কারণ হলো কর্টিসল, যাকে বলা হয় স্ট্রেস হরমোন।
এখন প্রশ্ন হলো-এই কর্টিসল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়? ওষুধ বা মেডিটেশনের পাশাপাশি খাবারও এ ব্যাপারে বিশাল ভূমিকা রাখে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের বাংলাদেশের বাজারেই আছে এমন অনেক খাবার, যেগুলো প্রতিদিন খেলেই মন-শরীর শান্ত থাকে।
চলুন, জেনে নিই বাংলাদেশে সহজলভ্য ৫টি খাবার যা স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস কমাতে কী খাবেন?
# শাক-সবজি
বলুন তো, শেষ কবে লাল শাক বা পালং শাক খেলেন? আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন শাক পাওয়া যায়।
এগুলো ভরা থাকে ম্যাগনেশিয়াম-এ, যা স্নায়ুকে শান্ত করে আর কর্টিসল কমায়।
খাওয়ার উপায়:
ভাতের সাথে এক বাটি শাক ভাজি রাখুন।
পালং শাক দিয়ে ডাল রান্না করুন।
হেলদি টিপস: অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে সামান্য রসুন দিয়ে ভাজুন।তাতে স্বাদও থাকবে,স্বাস্থ্যও ঠিক থাকবে।
# মাছ
ইলিশ, রুই, কাতলা বা কই মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্ক সতেজ রাখে এবং কর্টিসল কমায়।
হেলদি টিপস: ভাজা মাছের থেকে ঝোল বা স্টিম মাছ খাওয়া বেশি ভালো, এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।
# বাদাম ও বীজ
চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখীর বীজ—এসব আমাদের দেশে সহজেই পাওয়া যায়।
এগুলোতে আছে হেলদি ফ্যাট, ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম। যা কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষুধাও মেটায়।
খাওয়ার উপায়:
বিকেলে চা-এর সাথে একমুঠো বাদাম খান।
সকালে ওটস বা দইয়ের সাথে কিছু বাদাম/বীজ মিশিয়ে নিন।
হেলদি টিপস: নোনতা বা অতিরিক্ত ভাজা বাদামের বদলে কাঁচা বা হালকা ভাজা বাদাম খান।
# দেশি ফল
আম, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, জাম—এসব দেশি ফলে ভরা আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
এগুলো শরীরের ভেতরের চাপ কমায়, মন ভালো করে আর এনার্জিও জোগায়।
খাওয়ার উপায়:
সকালের নাস্তায় কলা খান।
দুপুরের পর পেয়ারা বা পেঁপে খান।
হেলদি টিপ: ফলের জুস নয়, সরাসরি ফল খান। এতে ফাইবার পাবেন, হজমও ভালো হবে।
# হোলগ্রেইন
লাল চাল, গমের রুটি বা ওটস ধীরে ধীরে এনার্জি দেয়, কর্টিসল বাড়তে দেয় না।
খাওয়ার উপায়:
সকালে গমের রুটি বা ওটস রাখুন।
দুপুরে বা রাতে লাল চালের ভাত খান।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

