AB Bank
ঢাকা বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে?


Ekushey Sangbad
লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২:২৫ পিএম, ২২ মার্চ, ২০২৪
রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে?

রমজান মাস নিজেকে আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করার শ্রেষ্ঠ মাস। এ সময় রোজা রাখেন মুসল্লিরা। তবে অনেকেরই মনে নানা ধরনের প্রশ্ন আসে এ সময়। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো- রোজা রেখে আতর বা পারফিউম ব্যবহার করা যাবে কি?


রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে কোনো জিনিস প্রবেশ করা। আতর বা পারফিউমের ঘ্রাণ নেয়ার কারণে সরাসরি তা শরীরে প্রবেশ করে না। তাই রোজা রেখে আতর বা পারফিউম ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম সা. রোজাদারকে সুগন্ধি দিয়ে মেহমানদারির কথা বলেছেন।

খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং কেউ সুগন্ধি হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করতেন, কখনো ফেরত দিতেন না। হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত- আতর, বিয়ে, মিসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৪৭৮)। অন্যদিকে আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটির ফতোয়াসামগ্রী- ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা’য় বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি রমজানে দিনের বেলায় রোজা অবস্থায় কোনো প্রকারের সুগন্ধি ব্যবহার করেছে, তার রোজা নষ্ট হয়নি।

আতর সবসময় ব্যবহার করা যায়। সাধারণ সময়ের মতো রমজান মাসেও আতর, পারফিউম ব্যবহার করা যাবে, এতে কোনও বাধা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে আতর ও পারফিউমে ধোঁয়ার মতো কিছু না থাকে অর্থাৎ পেটে প্রবেশ করার কোনো সুযোগ থাকা যাবে না। তবে উদ্ভিদজাতীয় বস্তু থেকে ঘ্রাণ শোঁকা ও গুঁড়ো সুগন্ধি যেমন গুঁড়ো মিশক থেকে ঘ্রাণ নেবে না। (কেননা এগুলো পেটে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।) (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১০/২৭১)
 
অন্যদিকে আতর ব্যবহার সুন্নত হলেও পারফিউমের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। কারণ অনেক পারফিউমে অ্যালকোহল ব্যবহৃত হয়। এজন্য পারফিউম ব্যবহারের আগে সেটিতে অ্যালকোহল আছে কিনা তা জানতে হবে। তবে পারফিউম যদি অ্যালকোহলমুক্ত হয় তবে এটি ব্যবহার করা জায়েজ।

যেমন- খেজুর বা আঙুরের রস থেকে তৈরি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় অপবিত্র। তাই তার ব্যবহার জায়েজ নয়। তবে যদি এটি অন্য কোনো জিনিস থেকে তৈরি করা হয়, তাহলে তা পবিত্র। তার ব্যবহার জায়েজ আছে। আজকাল পারফিউমে যে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়, তা খেজুর বা আঙুর থেকে প্রস্তুত করা হয় না। এগুলো তৈরি হয় সাধারণত চাল, গম, পেট্রল ও আলু থেকে। তাই এমন পারফিউম নাপাক নয়। এগুলো ব্যবহারে কাপড়ও নাপাক হবে না। এমন পারফিউম লাগানো কাপড়ে নামাজ পড়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলিক পানীয়কে এক মনে করা যাবে না।

‘ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা’ (খ.১,পৃ.৫৪৪, প্রকাশকাল ১৯৫০খৃ.)-এ- বর্তমান বিশ্বে অ্যালকোহল কিসের থেকে তৈরি, তার একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। সে তালিকায় আছে, মধু, শষ্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। তবে তাতে কোথাও আঙ্গুর বা খেজুরের কথা নেই।

ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতানুযায়ী বাজারে প্রচলিত অ্যালকোহল যদি খেজুর ও আঙ্গুর থেকে প্রস্তুত না হয়, তবে তা বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার বৈধ। নেশার উদ্রেক হয় না, এ পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে।
 

একুশে সংবাদ/এনএস

Link copied!