যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমছে না। এরই মধ্যে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং ইরান ইসরায়েলকে কঠোর জবাবের সতর্কবার্তা দিয়েছে।
আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ এলাকায় পৃথক দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও আরেকটি গাড়িতে আঘাত হানা হয়। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, এসব হামলায় মোট চারজন প্রাণ হারান।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান দাবি করে আসছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ থাকা উচিত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে তা যে কোনো চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। তাঁর মতে, সেনা প্রত্যাহার ছাড়া সংঘাতের অবসান হয়েছে বলা যায় না।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্বও সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান বজায় থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। অনেকের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৬ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৫১ জন আহত হয়েছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

