বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের শর্ত দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে পাঠানো ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে এই শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করত। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবরোধ জারি করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় ইরান শর্ত দিয়েছে—প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং তা ইরানের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে করতে হবে। জাহাজ চলাচল তদারকি করবে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে হরমুজ দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের অনুমতি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এবং যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

