যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লেবানন পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও, ইসরায়েল তা কার্যকর হিসেবে দেখছে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সমর্থন থাকলেও লেবাননের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বার্তায় জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এতে সম্মত হয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি অবস্থান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, তারা মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমন্বিত আঘাত।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনা। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হয়। যদিও অনেক স্থাপনা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ছিল, তবুও বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন জানিয়েছেন, হামলার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালগুলো আহত ও নিহতদের ভিড়ে উপচে পড়ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হতাহত মানুষের সংখ্যা ‘শত শত’ ছাড়িয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ইসরায়েল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে লেবানন সরকার।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

