মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানির দামে আরও বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
তেল বিশ্লেষক বন্দনা হরি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিছু বাজারে তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার হতে পারে। তিনি আরও জানান, দামের ভবিষ্যৎ প্রবণতা অনেকটাই নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালী কতদিন স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।
এদিকে ইউরোপীয় গ্যাস বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ইউরোপে গ্যাসের দাম একপর্যায়ে ৩০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ডাচ টিটিএফ গ্যাসের মূল্য একসময় ৭৪ ইউরোতে পৌঁছালেও পরে কিছুটা কমে আসে।
জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহৎ এলএনজি স্থাপনাগুলোর একটিতে হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

