যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের শান্ত থাকা এবং সম্ভব হলে অন্য শহর বা নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নির্দেশনা জারি করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই ইসরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
হামলার সময় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি অবস্থান করার নির্দেশ দেয়। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক রাখতে এই ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় তেহরানের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা অধিদপ্তরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ইরান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে, এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান কয়েক মাস ধরেই পরিকল্পনায় ছিল এবং এর সময়সূচি আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘শিল্ড অব জুডাহ’ নামের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

