মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের অর্থ ফেরতের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস কোম্পানি ফেডএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের আইনগত ভিত্তি বাতিল করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শান্তিকালে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। আদালতের মতে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
এই রায়ের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ফেডএক্স যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলা দায়ের করে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এবং এর কমিশনার রডনি স্কটকে বিবাদী করা হয়েছে, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার নথিতে ফেডএক্স দাবি করেছে, শুল্ক আরোপের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে তারা সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফেডএক্স সতর্ক করে জানিয়েছিল, শুল্ক আরোপ এবং ৮০০ ডলারের কম মূল্যের ছোট পার্সেলে শুল্ক ছাড় বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৬ সাল নাগাদ তাদের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আদায়ের আইনগত ভিত্তি বাতিল করলেও আদায় করা অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়নি। ফলে শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে এবং এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প ইতোমধ্যে আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন করে ১৫ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
ফেডএক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমদানিকারক হিসেবে নিজেদের আইনি অধিকার রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক রিফান্ড প্রক্রিয়া চালু হয়নি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স ও ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন দ্রুত শুল্ক ফেরত প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কস্টকো, রেভলন ও এসিলরলুক্সোটিকার মতো বড় প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের দাবি তুলেছে।
ইয়েল বাজেট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইইইপিএ-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে। অন্য কিছু হিসাবে এই অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্ক বাতিল হলেও ট্রেড এক্সপানশন অ্যাক্ট ১৯৬২-এর সেকশন ২৩২ এবং ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১-এর অধীনে আরোপিত খাতভিত্তিক শুল্ক এখনো কার্যকর রয়েছে। ইয়েল বাজেট ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর গড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

