ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবে সৃষ্ট টানা ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালাব্রিয়া, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া অঞ্চলে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিলির নিশেমি শহরে ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে অন্তত এক হাজার ৫০০ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইতালির নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী নেলো মুসুমেচি জানান, ভূমিধস শহরের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৫০ মিটার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিধসের প্রভাব প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ভূমিধস অব্যাহত থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে নিশেমি এলাকায় একাধিক বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো স্থানে ভূমি ধসের গভীরতা ছয় মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালি সরকার জাতীয় জরুরি তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, জরুরি সেবা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
এদিকে উত্তর ইতালির আরেনজানো ও জেনোয়ার মধ্যবর্তী ভিয়া অরেলিয়া উপকূলীয় সড়কে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্ডিনিয়া অঞ্চলে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

