বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন শ্রিংলা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বর্তমানে প্রশাসন পরিচালনা করছেন, তারা নির্বাচিত নন। নিজেরাই নিজেদের সেই অবস্থানে বসিয়েছেন। এই প্রশাসন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার বরাবরই চায় বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিক, তবে বাস্তবে সেটি হচ্ছে না।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, “নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে ইসলামপন্থী এই দলটির ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা কারচুপি হয়, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি নয় এবং সেটিও মূলত অন্য রাজনৈতিক দলের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে লোকজন এখানে আসছেন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা। এই চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।” তিনি যোগ করেন, ভারত চায় বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াজগতের স্বার্থের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আমার অনেক বন্ধু আছেন, যারা ক্রীড়াজগতের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের স্বার্থে নেওয়া হয়নি।”
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

