দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে জরুরি অবস্থা এবং বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে সরকার। দাবানলের কারণে এরই মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক রোববার জানান, নিহতের সংখ্যা ১৮-তে পৌঁছেছে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী লুইস কর্দেরো জানিয়েছিলেন, বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলেই দাবানলের প্রভাব সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রোববার এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সেনাবাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বোরিক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সরকারি সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুটি শহরের সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিজালদে সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক দিনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২৫০টি বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে রাস্তায় পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।
চিলির বন বিভাগ কনাফ জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে একযোগে ২৪টি দাবানলের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দমকল বাহিনী। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আগুনগুলো বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। দীর্ঘদিনের খরা, প্রবল বাতাস ও গ্রীষ্মকালীন উচ্চ তাপমাত্রা দাবানলের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে সান্তিয়াগো থেকে বায়োবিও পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ ও মধ্য চিলিতে বারবার বড় ধরনের দাবানল দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভয়াবহ দাবানলে ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সে সময় প্রেসিডেন্ট বোরিক একে ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

