ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত সব দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, এই শুল্ক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে কোন ধরনের লেনদেন বা বাণিজ্যকে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে— সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বর্তমানে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের তালিকায় রয়েছে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও তুরস্ক। নতুন এই শুল্ক সিদ্ধান্ত এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় রয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় একাধিক বিকল্প খোলা রাখেন এবং বিমান হামলা সেসব বিকল্পের মধ্যেই রয়েছে।
তিনি বলেন, কূটনীতি সবসময় প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার হলেও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। লেভিট আরও উল্লেখ করেন, গত গ্রীষ্মে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা তেহরান ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান দ্রুত কমে যাওয়ায় তেহরানে বিক্ষোভে নামেন ব্যবসায়ীরা। গত এক বছরে রিয়ালের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে পতন ঘটেছে এবং একই সময়ে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
এর ফলে ভোজ্য তেল, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে চাপের মুখে ফেলেছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

