চলতি বছরে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ লাখ সেনা নিহত বা যুদ্ধের বাইরে চলে গেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির মতে, এত বড় ক্ষতি অদূর ভবিষ্যতে পূরণ করা ইউক্রেনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসোভ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি) জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বেলৌসোভ বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ক্ষতির কারণে কিয়েভের জন্য নতুন করে সেনা সংগঠিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিপুল হতাহতের প্রভাবে ইউক্রেনের সাধারণ জনগণের মধ্যে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারের বেশি সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার পাঁচশ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে, যেগুলোর বড় অংশ পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া ইস্যু ও ন্যাটোর সদস্যপদ ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইউক্রেন সরকার ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
শুরুতে ইউক্রেনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ন্যূনতম বয়স ছিল ২৭ বছর, যা গত বছর কমিয়ে ২৫ করা হয়। এদিকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ঘিরে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার অভিযোগে গত এক বছরে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

